আন্তর্জাতিকজাতিসংঘ

আফগানিস্তানে কিছু কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা জাতিসংঘের

জাতিসংঘের নানান সহায়তা সংস্থাসহ একগুচ্ছ আন্তর্জাতিক এনজিও আফগানিস্তানে কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। তালেবান সরকার কর্তৃক এনজিওতে নারীদের নিষিদ্ধ করার পর বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এনজিওতে নারীদের নিষিদ্ধ করায় কর্মী সংকটের কারণে তারা এমনটি করতে বাধ্য হয়েছে। এ অবস্থায় নারী নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত শিগগিরই বদলাতে তালেবানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এনজিওগুলো।

বুধবারের (২৮ ডিসেম্বর) বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এটা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। তাদের এ সিদ্ধান্তের কারণে আমরা কর্মী সংকটে পড়েছি। এ সিদ্ধান্ত বদলাতে তালেবান সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।’

যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের সহায়তা বিভাগের প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস, আফগানিস্তানে নিয়োজিত জাতিসংঘের নানান সংস্থা ও অনেক আন্তর্জাতিক এনজিও প্রধান সই করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম থেকে নারী কর্মীদের নিষিদ্ধ করার ফল হবে ভয়াবহ। এতে আফগানিস্তানের প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও খাবারের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তালেবান সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু তালেবান তাদের সিদ্ধান্ত না পাল্টালে আরও কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করতে আমরা বাধ্য হব।’

আফগানিস্তানের ৪ কোটি মানুষের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। চলতি শীতে বিদেশি সহায়তা না পেলে এসব মানুষের জীবন সংকটাপন্ন হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর পাশাপাশি বুধবার ১২টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এনজিওর নারী কর্মীদের ওপর তালেবানের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে। এনজিওতে নারীদের কাজ ও নারীদের বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো।

যৌথ বিবৃতিতে সই করেছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ।

বুধবারের ওইসব বিবৃতির আগে রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি আন্তর্জাতিক এনজিও আফগানিস্তানে নিজেদের কিছু মানবিক সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে। কিন্তু প্রতিবেদনটিতে এনজিওগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক এনজিওর কার্যক্রম স্থগিত বা বিভিন্ন দেশের উদ্বেগ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি তালেবান সরকার।

২০২১ সালের আগস্টে ২০ বছরের যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অত্যন্ত করুণভাবে আফগানিস্তান ত্যাগ করে। পশ্চিমাদের দেশত্যাগের আগে তাদের সমর্থিত আশরাফ গনি সরকারের পতন হয়। প্রায় বিনা বাধায় কাবুল দখল তথা আফগানিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরে তালেবান। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা গ্রহণ করেই নারীদের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিতে থাকে তালেবান।

শুরুতেই তারা নারী মন্ত্রণালয় বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এরপর ক্রমান্বয়ে সরকারি অফিসের উচ্চপদ থেকে নারীদের তাড়িয়ে দেয়। উচ্চবিদ্যালয়ে ছাত্রীদের শিক্ষা বন্ধ করে দেয়। নারীদের স্বাধীন চলাফেরায় বিধিনিষেধ জারি করে।

তারই ধারাবাহিকতায় ২৪ ডিসেম্বর সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর শনিবার (২৪ আগস্ট) স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওতে নারীদের নিষিদ্ধ করে তালেবান সরকার।

অথচ আগস্টে ক্ষমতা গ্রহণের আগে ও পরে তালেবানের শীর্ষ নেতারা একাধিকবার বলেছেন, তারা নারী অধিকার ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবেন না। ইসলামী আইন মেনে নারীরা সমাজ ও রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে অংশ নিতে পারবেন।

কিন্তু তাদের বর্তমান পদক্ষেপ, তালেবানের ১৯৯৬-২০০০ আমলের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। তালেবানের ওই আমলে নারীদের ‘অন্ধকূপে’ পাঠানো হয়েছিল।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension