আফ্রিকার চার দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র
আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপারচুনিটি অ্যাক্ট (আগোয়া) চুক্তি থেকে আফ্রিকা মহাদেশের চারটি দেশকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতান্ত্রিক শাসনের যথাযথ অগ্রগতি না হওয়ায় এই চার দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে চলেছে দেশটি।
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালে আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপারচুনিটি অ্যাক্ট (আগোয়া) নামে একটি আইন চালু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর অধীনে যোগ্য সাব-সাহারান আফ্রিকান দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১ হাজার ৮০০টিরও বেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।
কিন্তু সম্প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতান্ত্রিক শাসন বজায় রাখতে না পারায় উগান্ডা, গ্যাবন, নাইজার ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র (সিএআর) এই চারটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ বিষয়ে বাইডেন জানান যে, নাইজার এবং গ্যাবন আগোয়া চুক্তির অযোগ্য। কারণ তারা ‘রাজনৈতিক বহুত্ববাদের সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। উভয় দেশেই এ বছর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে সামরিক বাহিনী।
এ ছাড়া মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র এবং উগান্ডার সরকার ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ করছে বলে তাদেরকে চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে।
গত মে মাসে সমকামিতার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে কঠোর আইন পাস করে উগান্ডা। দেশটিতে সমকামিতা-বিরোধী এই আইন পাস হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা আফ্রিকান দেশটিকে আগোয়া চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তা করছে।
সোমবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের উদ্দেশ্যে এক চিঠিতে জো বাইডেন বলেন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গ্যাবন, নাইজার এবং উগান্ডা আগোয়া যোগ্যতার মানদণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগগুলো সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আগামী বছরের শুরু থেকে আফ্রিকার এই চার দেশকে আগোয়া চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে আগোয়া চুক্তি থেকে বাদ পড়া দেশগুলো এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।



