
আমাকেও গ্রেফতার করতে পারে কেন্দ্রীয় সংস্থা: মমতা
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করছে মোদী সরকার। সরকারের চাপের মুখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থাগুলি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকেও গ্রেফতার করতে পারে। এমনই মনে করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল কংগ্রেসের তহবিল সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে নেমে মোট চার জনকে নোটিশ পাঠিয়েছে সিবিআই। ওই চার জন হলেন- মানিক মজুমদার, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুবত বক্সি এবং মুকুল রায়। এদের মধ্যে মানিক বাবু ছাড়া সকলেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হয়েছিলেন। সুব্রতবাবু লোকসভার সাংসদ। এখনও রাজ্যসভার সদস্য রয়েছেন ডেরেক। মুকুল রায় সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়ে বিজেপি শিবিরে নাম লিখিয়েছেন ২০১৭ সালের শেষের দিকে। যদিও ২০১৫ সাল থেকেই তাঁর সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।
লোকসভা নির্বাচনের আগে চিটফান্ড তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সক্রিয়তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল। মুখ খুলেছেন খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, “যে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করছে, তাঁর বিরুদ্ধেই এ সব চলছে। এই যে আমি কেন্দ্রের বাজেট সম্পর্কে আপত্তি করছি, আমাকেও গ্রেফতার করতে পারে। করুক কোনও আপত্তি নেই। তার জন্য কি আমি কথা বলা বন্ধ করে দেব?”
বৃহস্পতিবার সকালেই মমতার রাজনৈতিক জীবনের পুরানো সঙ্গী মানিক মজুমদারের বাড়িতে সিবিআই এবং ইডি হানা দিয়েছে৷ মানিকবাবু মমতার প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক৷ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন কালীঘাটের ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের কাছাকাছিই থাকেন মানিকবাবু৷ এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেছেন, “যিনি অফিস দেখভাল করেন, তাঁকে ডাকছে। ৩০-৪০ বছর কাজ করছেন। এরপর তো যিনি রান্না করেন, তাঁকে ডেকে পাঠাবে।” তাঁর ছবি বিক্রির মধ্যে কোনও জালিয়াতি নেই বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগের ভিত্তিতে মুখ খুলেছেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। বিজেপির এই সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, “দ্বিতীয় ইউপিএ জমানায় সিবিআইকে চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তের নির্দেশ দিয় সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশের নয় মাস পর মোদী সরকার আসে।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “নিজের দলের সাংসদ কুণাল ঘোষকে গ্রেফতার করতে পারেন, সেটা দোষের নয় আর সিবিআই যদি মানিক মজুমদারের খোঁজ করে তবে দোষের হয়ে গেল?”



