বাংলাদেশ

আরাভ খানকে ফেরাতে কাগজপত্র দুবাই পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

ঢাকায় পুলিশ হত্যা মামলার পলাতক আসামি রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ জন্য আরাভবিষয়ক সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে বাংলাদেশ মিশন।

আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ও মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান।

তিস্তার খাল খননের বিষয়ে ভারতকে দেওয়া বাংলাদেশের চিঠির জবাব মিলেছে কিনা জানতে চাইলে মুখপাত্র জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া কূটনৈতিক পত্রের (নোট অব ভারবাল) জবাব এখনো দেয়নি ভারত।

র‌্যাব নিয়ে ডয়েচে ভেলে ও নেত্রনিউজের প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, র‌্যাব দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করে। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য র‌্যাবকে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।

ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘে ভোটদানে বাংলাদেশের বিরত থাকার ব্যাখ্যায় সেহেলী বলেন, যখনই জাতিসংঘে কান্ট্রি বেসিস ভোটের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট রেজুলেশন হয়, তখন বাংলাদেশ সাধারণত ভোটদানে বিরত থাকে। কারণ ইউক্রেন এবং রাশিয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই রেজ্যুলেশনে কী আছে তা পরীক্ষা করে আমরা মতামত জানাব।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভিসা বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলাদেশিদের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি সৌদি আরব। ভিসা বাণিজ্যে গ্রেপ্তার আট বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনের পরিচয় আমরা জানতে পেরেছি। তাদের পরিবার থেকেও এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেনি। সৌদির পক্ষ থেকে তথ্য পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সরকারের কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

আরেক প্রশ্নের জবাবে সেহেলী সাবরীন বলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রেপ্তারের ইস্যুটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বিষয়টি তাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) আদালতে বিচারাধীন। তাই এ নিয়ে বাংলাদেশের কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ট্রাম্প নিউইয়র্কে ম্যানহাটনের আদালতে গ্রেপ্তার হন। পরে আদালতে শুনানি শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ট্রাম্পই প্রথম সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট যাকে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হতে হলো।

ইন্দো-প্যাসিফিক বা অন্যকোনো ইস্যুতে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র নীতি থেকে কখনও বিচ্যুত হবে না বলে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ, উন্নয়নকে উৎসাহিত করা, জীবিকা এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন করা আমাদের পররাষ্ট্র নীতির প্রাথমিক ভিত্তি। এসব অনেকাংশে নির্ভর করে বঙ্গোপসাগরসহ বিভিন্ন সাগর ও মহাসাগরে মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তমূলক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর। এ বিশাল বিশ্ব বাণিজ্য রুটের পাশের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিকভাবে উন্নয়নে সাগর-মহাসাগরে যে কানেক্টিভটি, তাতে সম্পৃক্ত থাকবে। বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ ভূ-রাজনীতির প্রতি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension