
আমিও দেখেছিলাম শতাব্দীর শেষ সূর্যোদয়
ভেবেছিলাম হয়তো অতিক্রান্ত হবে অমানিশা;
রোমান রাত্রির সুরে যৌবনের অমার্জিত ক্ষয়
অন্তর্জলী যাত্রায় মুমূর্ষ মহাকাল পাবে দিশা।
পুঁজিবাদী পৌরহিত্যে পৃথিবীর পারমাণবিক
পাপাচারে হিরোশিমা হায়, কাঁদবে না পূনর্বার;
বিকলাঙ্গ শিশুর সন্তাপে বিহঙ্গিনী দিগ্বিদিক
আর্তনাদে নির্বাসিত নীলিমায় উড়বে না আর।
নতুন শতাব্দী তবু বুকে তার পুরাতন ব্যাধি
মেহনতি মানুষের মতবাদে ধরেছিল ঘুণ;
মারণাস্ত্রে মুখরিত সাম্রাজ্যের প্রাচীন পরিধি
মন্বন্তরে মৃত্যুর প্রতীক্ষা করে শাণিত শকুন।
মূল্যহীন মানুষের কোলাহলে কলঙ্কিত কাল
অদৃশ্য অস্ত্রের পরীক্ষায় জ্ঞান বিবেক বিহীন;
ব্যক্তিবাদী ব্যভিচারে নিপীড়িত নিয়তি উত্তাল
ব্যর্থ তবু প্রতিরোধ যেহেতু জলেও সাবমেরিন।
যখন ডুবেছে চাঁদ সমুদ্রের জানালার পাশে
পশ্চিমে প্রলুব্ধ প্রাচ্য লীন যেন তেলে আর জলে;
বাদামি চোখের ধাঁধা উন্মোচিত উত্তপ্ত উচ্ছ্বাসে
আদিম রমণী রাতে এসেছিল বিবস্ত্র বল্কলে।
স্মৃতির পাতায় আজ দেখি সেদিনের মায়াবিনী
অতীতের অনামিকা অথচ ভুলিনি অভিজ্ঞান;
ধূসর হয়েছে বহু সনাতন সন্ধ্যার স্বৈরিণী
ধ্রুপদী ধরণী বুঝি তাই করেছিল অভিমান।
হোমার, তোমার গানে অমর অদ্ভুত অলিম্পাস
ইলিয়াম দেখেছিল দেবতার দুরন্ত দ্বৈরথ;
মেঘের ডানায় চিঠি পাঠালো কাব্যিক কালিদাস
ঠিকানার অন্বেষণে মেঘ করেছিল গতি শ্লথ।
ওমরের প্রাণপ্রিয়া পরাজিত বিত্তের বৈভবে
সকল প্রেমের গল্পে নেই সুমধুর পরিণতি;
মন যার মুসাফির ঘর বেঁধেছিল তারে কবে
বিষের বাটির জ্বালা কী আর করবে তার ক্ষতি!
পৃথিবী এখন শ্লথ গতির গরিমা অস্তাচলে
সময়ের সুপ্ত সুর ঘড়ির কাঁটায় কম্পমান;
দার্শনিক দিব্য দৃষ্টি লোভের লজ্জায় রসাতলে
ভোগবাদী ভাবনায় ভালোবাসা আজ ব্যর্থ গান।
বধির বিধাতা বহুদূর সীমাহীন সপ্তাকাশে
সাগরে ডুবেছে তরী শূন্যতায় স্তব্ধ চিৎকার;
ব্যক্তির বিবিক্তবোধ বিপর্যস্ত বিভিন্ন বিশ্বাসে
ভাঙছে হাজার ঘর পুড়ে পুড়ে হৃদয় অঙ্গার।
নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস নিঃসঙ্গ নতুন ক্যালেন্ডারে
মৃত সব মতবাদ কেবল কর্মঠ স্বৈরাচার;
জনতার জনমত জব্দ দূরদর্শনের তারে
মেধা শূন্য মানবতা লুঠ করে সমস্ত সম্ভার।
বিজ্ঞান বিবৃত করে মনের আগাম আয়োজন
কৃত্রিম বুদ্ধির চাষে লুপ্ত মানবিক মূল্যবোধ;
অতীতের অন্ধকারে দেখি আগামীর উদ্বোধন
শ্রমিকের রক্ত-স্বেদ করছে কালের ঋণ শোধ।
আমিও দেখেছি হায়, দিকভ্রান্ত দ্বৈব দুর্বিপাকে
শ্মশানের স্তব্ধ শোকে আঁধারের বিশুদ্ধ বিশ্রাম;
অপরিচিতা অপ্সরী মনে হয় ডাকছে আমাকে
একবার ভাবি জানি, আবার ভুলেছি তার নাম।
হয়তো হারাবো আমি সেই রূপসীর ছলনায়
পরিত্রাণ পরাভূত দূর্নিরীক্ষ দীপান্বিত দ্বার;
আজীবন অনাচারী এখন কি বৈরাগ্য মানায়
দু”চোখের দ্রাঘিমায় আজ আলোকিত অন্ধকার!



