আন্তর্জাতিকপরিবেশ

আশঙ্কাজনক হারে কমছে কানাডার মেরু ভল্লুক

কানাডার পশ্চিম হাডসন বের পোলার বিয়ার বা মেরু ভল্লুক আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। গত পাঁচ বছরে সেখানে মেরু ভল্লুক কমে গেছে প্রায় ২৭ শতাংশ। দেশটির এক সরকারি রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছর এ এলাকায় ৬১৮টি প্রাণী বসবাস করতে দেখা গেছে, যেখানে ২০১৬ সালে সংখ্যাটা ছিল ৮৪২। খবর বিবিসি।

এ সময়ে নারী ও শিশু মেরু ভল্লুক সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। আর পুরুষ ভল্লুকের সংখ্যা কাছাকাছি একই রকম থাকতে দেখা গেছে। এভাবে ভল্লুক কমে আসার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে জলবায়ু পরিবর্তন। সারা বিশ্বের তুলনায় সুমেরু অঞ্চল এখন অনেক দ্রুত উষ্ণতার মুখোমুখি হচ্ছে। সেখানে ভল্লুকগুলো মূলত সিল শিকারের ওপর নির্ভরশীল। তবে এখন সামুদ্রিক বরফ অনেক দেরিতে তৈরি হচ্ছে এবং প্রতি বছর আগে আগে খুব দ্রুত গলে যাচ্ছে।

সংরক্ষণবাদী বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে বরফবিহীন মৌসুমের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ভল্লুকগুলোকে অনাহারের মুখে ঠেলে দেবে। কানাডা সরকারের রিপোর্ট বলছে, যেভাবে ভল্লুক কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তা অনেকটা প্রাণীটির ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের জনসংখ্যাগত প্রভাবের দীর্ঘস্থায়ী ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

একই সময়ে ওইসব তথ্যে সতর্কতা জানানো হয়েছে, যেন এভাবে ভল্লুক কমে আসা এবং সামুদ্রিক বরফ কমে আসার প্রবণতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ না খুঁজে বের করা হয়। গত পাঁচ বছরের মধ্যে চার বছরেই বরফের বেশ ভালো অবস্থা দেখা গেছে। সেখানে আরো বলা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে সিলের সংখ্যা এখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। রিপোর্টে এটাও বলা হয়েছে, অনেক ভল্লুক পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অভিবাসী হয়ে যাচ্ছে।

স্তন্যপায়ী প্রাণীটি সবচেয়ে বড় জীবিত মাংসাশী প্রাণী যারা প্রতি শরত্কালে পশ্চিম হাডসন বে উপকূল থেকে মানিটোবা প্রদেশে চলে যায় সামুদ্রিক বরফে ফিরে আসার জন্য। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গবেষণা করা প্রাণী এবং তাদের অভিবাসনের ফলে লাখ লাখ ডলার আয় করা সম্ভব হয়। কারণ এ সময়ে মানিটোবার শহর চার্চিলকে বলা হয় ‘বিশ্বে মেরু ভল্লুকের রাজধানী’। সেখানে স্থানীয় ভল্লুক দেখার জন্য যে অর্থ আয় হয় বছরে তার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৩ লাখ ডলারে। এ মৌসুমে মানিটোবার বাসিন্দারা সাধারণ অভ্যাসের অংশ হিসেবে সবসময় গাড়ির দরজা আনলক রাখে, যেন কেউ ভল্লুকের মুখোমুখি পড়লে দৌড়ে গাড়িতে উঠতে পারে।

হাডসন বে ঘিরে মৌসুমি সামুদ্রিক বরফের পরিমাণ বসন্তকালে আগে আগেই কমে যাচ্ছে এবং পরে শরত্কালে দেরিতে তৈরি হচ্ছে। ফলে ভল্লুকগুলোকে দীর্ঘ সময় খাবার ছাড়াই কাটাতে হচ্ছে। গবেষকরা এও বলছেন, বর্তমানে এসে মেরু ভল্লুক কমে আসার প্রবণতা বাড়তে দেখা গেছে। ২০১১-১৬ সালে কমেছিল মাত্র ১১ শতাংশ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension