
ইলহান ওমরের বাসায় ফেডারেল তল্লাশি
‘কণ্ঠরোধ করা যাবে না’—বললেন কংগ্রেসওম্যান; নির্বাচনের আগে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক
হোসনেআরা চৌধুরী :
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসভবনে সোমবার তল্লাশি চালিয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। একটি চলমান ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে তদন্তের সুনির্দিষ্ট বিষয় ও সম্ভাব্য অভিযোগ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (HSI) কর্মকর্তারা বিচারিক অনুমোদনপ্রাপ্ত তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেন। অভিযানের সময় কর্মকর্তাদের বাসভবন থেকে ‘Seized Property Evidence’ লেখা বাক্স সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ ওমরের
তল্লাশির পর এক বিবৃতিতে ইলহান ওমর অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের প্রচেষ্টার অংশ এই পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, গত এক দশক ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করেছেন। সাম্প্রতিক তল্লাশিকে তিনি রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের প্রচেষ্টার নতুন ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ওমর স্পষ্ট করে বলেন, কোনো চাপের মুখেই তিনি নীরব থাকবেন না।
ট্রাম্পের অস্বীকৃতি, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইলহান ওমরের বাসভবনে তল্লাশির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তদন্তের দায়িত্ব বিচার বিভাগের বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে একই দিনে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ওমরকে নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্যও করেন ট্রাম্প।
এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন ওমরের পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্রে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে তদন্তের কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওমর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তল্লাশিটি চলমান ফেডারেল ফৌজদারি তদন্তের অংশ। তবে তদন্তের পরিধি, সংগৃহীত প্রমাণ কিংবা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিতর্ক
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে এ তল্লাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইলহান ওমর।
কংগ্রেসের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতারা তল্লাশির সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচনের আগে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বাসভবনে এ ধরনের অভিযান রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
বিচার বিভাগের প্রচলিত নীতিগত চর্চায় নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে রাজনৈতিক প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য তদন্তমূলক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। তবে এ ঘটনায় তল্লাশির সময় নির্ধারণের কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
শরণার্থী থেকে কংগ্রেস সদস্য
সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ইলহান ওমর শৈশবে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০১৮ সালে তিনি প্রথমবার প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন। তিনি মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম-আমেরিকান নারীর একজন।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছেন। তাঁর অভিবাসন ইতিহাস ও পারিবারিক নথিপত্র নিয়ে অতীতেও রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে।
তল্লাশির পর তদন্তের পরবর্তী গতিপথ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নির্বাচনের আগে এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক জবাবদিহি এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।



