সম্পাদকীয়

ইশতেহার ঘোষণা ও তার বাস্তবায়ন

একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে সব দল ও জোট ইশতেহার ঘোষণা করেছে। উন্নয়ন, গণতন্ত্র, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, দারিদ্র্য বিমোচনসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এসব ইশতেহারে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করা, নগর ও শহরে পরিকল্পিত ভূমির ব্যবহার, প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। ইশতেহার ঘোষণার শেষদিকে তিনি বিগত দিনে তার সরকারের আমলে কোনও ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখারও আহ্বান জানিয়েছেন।

অপরদিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান, দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকা, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ, সামরিক বাহিনী ও পুলিশ ছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা তুলে দেওয়া, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র আদিবাসী ছাড়া সব ধরনের কোটা তুলে দেওয়াসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। ইশতেহারে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে তেমন কোনও পার্থক্য দৃষ্টিগোচর হয় নি। ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য একটি প্রতিশ্রুতি হল যুদ্ধাপরাধের বিচার অব্যাহত রাখা।

সব রাজনৈতিক দল বা জোটের ইশতেহারেই প্রায় একই ধরনের জনমুখী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার হল, রাজনৈতিক দল আর ভোটারদের মধ্যে একটি অলিখিত চুক্তি। নির্বাচনী ইশতেহার হল, একটি দলের রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নিজ দলের আদর্শিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ঘোষণা এবং জনগণের প্রতি তাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। রাজনৈতিক দলগুলো সব প্রতিশ্রুতি সাধারণত বাস্তবায়ন করতে পারে না। বাস্তবায়ন করতে না পারলে, সেই ইশতেহারের পয়েন্টগুলো ধরে জনগণের কথা বলার সুযোগ থাকে।

সব দলের ইশতেহারেই গণতন্ত্র, সুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন, দারিদ্র্য বিমোচন, সম্পদের সুসম বণ্টনের অনেক কথা বলা হয়েছে৷ এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে তো আগামী বাংলাদেশে কোনও সমস্যাই থাকবে না!  সুতরাং মাথায় রাখতে হবে,  যত বেশি সম্ভব ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা যায়।

কে কীভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলেন-গেলেন এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের কাছে তা খুব বড় বিষয় নয়; বড় বিষয় হল- শাসকদল ক্ষমতায় এসে গণমানুষের কল্যাণে কতটুকু অবদান রাখতে সক্ষম হলেন, সেটা। আমরা মনে করি, নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত থাকা প্রয়োজন এবং ক্ষমতাসীন দলের বা জোটের পক্ষ থেকে তাদের বাস্তবায়িত কর্মসূচির বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা। উন্নয়নের রোল মডেল হওয়ার পরও বাংলাদেশের অনেক অর্জন এখনও বাকি রয়ে গেছে। এসব লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে অনেক বাধা। যে দল বা জোটই সরকার গঠন করুক, সে সব বাধা অতিক্রম করার জন্যই ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension