
এশিয়া কাপ ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারত মুখোমুখি
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক: পরিসংখ্যান বিপক্ষে, তবুও ফাইনালে সব বাধা জয় করতে মরিয়া বাংলার বাঘেরা। লক্ষ্য ছিল এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলার। পুরন হয়েছে সেই সপ্ন। কিন্তু আসল কাজটা যে এখনো বাকি। শুক্রবার বিকেল ৫:৩০ মিনিটে দামামা বেজে উঠবে এশিয়া কাপ ফাইনালের। প্রতিপক্ষ সেই ভারত। ভুলেগেলে চলবেনা যে ভারত ওয়ানডের সেরা দুটি দলের একটি।
সুপার ফোরের প্রথম দু’টি ম্যাচ জিতে আগেই ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ভারত৷ তাই ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচ টাই হলেও রোহিতদের ফাইনাল খেলা নিয়ে কোনও সমস্যা হয়নি৷ আর সুপার ফোরে ভারতের কাছে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মুস্তাফিজুররা। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে পরপর হারিয়ে ফাইনালের টিকিট ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ।
নেই সাকিব-তামিম। এই দুই তারকাকে ছাড়া দলটাকে ছন্নছাড়া দেখালেও বুধবার সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট আদায় করে নেয় বাংলাদেশ। সেটি সম্ভব হয়েছে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার সাহসী অধিনায়কত্ব, মুশফিকুর রহিম আর মোহাম্মদ মিঠুনের অনবদ্য ব্যাটিং, মোস্তাফিজ-মাহমুদউল্লাহ আর মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে। গোটা একটা দল হয়ে বাংলাদেশের বাকি খেলোয়াড়েরা খেললেন, দারুণ জয় তুলে নিলেন। বাংলাদেশ পৌঁছে গেল টানা দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে।

প্রতিযোগিতার শুরুতেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল। আফগানিস্থানের বিরুদ্ধে ইঞ্জেকশন নিয়ে খেললেও সুপার ফোরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চোটের জন্য খেলতেই পারেননি দেশের সেরা অলরাউন্ডার শাকিব আল হাসান। তামিমের মতো ফাইনালে শাকিবকেও পাচ্ছে না বাংলাদেশ। মুশফিক পাঁজরের চোটের জন্য প্রথম ম্যাচে ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে খেলেছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষেও খেলেছেন পাঁজরের ব্যথা নিয়েই। চোট রয়েছে অধিনায়কেরও।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ১২ রানে তিন উইকেট হারানোর পর বিপর্যয় যখন দরজায় কড়া নাড়ছিল তখনই সেখান থেকে মোহাম্মদ মিঠুনকে সাথে নিয়ে স্রোতের প্রতিকূলে ব্যাট হাতে লড়াকু ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন মুশফিক। তাদের ১৪৪ রানের জুটিই বাংলাদেশ লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়। মুশফিকের ৯৯ রানের দুরন্ত ইনিংস গোড়াতেই তিন উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের রসদ জোগায়।
মাশরাফির অধিনায়কত্ব ছিল নজরকাড়া। নিজের সব ওভার শেষ করতে পারেননি। উইকেট না পেলেও গড় রান ঠিক রেখেছেন। দুটি ক্যাচ নিয়েছেন। এর মধ্যে একটি তো ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা এবং তাও আবার পাকিস্তানের সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান শোয়েব মালিকের। ওই সময় মাশরাফি ক্যাচটা না ধরতে পারলে ম্যাচের চিত্রটা ভিন্নও হতে পারতো।
এ বারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ অবশ্য চোট-আঘাতের সমস্যাকে হেলায় হারিয়েছে। পাকিস্তানকে হারিয়ে দারুণ উদ্দীপ্ত দেখাচ্ছে সবুজ জার্সিধারীদের। ফাইনালে তাই রোহিত শর্মার দলের কাজ সহজ হবে না কোনও ভাবেই। তবে ধারে-ভারে-ঐতিহ্যে-পারফরম্যান্সে-পরিসংখ্যানে ভারতই ফেভারিট।কিন্তু যেভাবে চোট-আঘাতের প্রতিকূলতা টপকে বুধবার পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলার বাঘেরা, তাতে সমর্থকরা কাপ জয়ের স্বপ্নটা দেখতেই পারেন।



