
ঐক্যফ্রন্টের সকল দলের প্রতীক ‘ধানের শীষ’
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: আজ ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে জোটের অন্যতম শরিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
স্টিয়ারিং কমিটির ওই বৈঠকে চলমান রাজনীতি ও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করা হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা যায়।
বৈঠক শেষে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা যতগুলো দল মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছি, তারা সবাই একটি কমন প্রতীক নিয়ে এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করব। আর ঐক্যফ্রন্টের সেই প্রতীক হবে ধানের শীষ। আসন বন্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, সিদ্ধান্ত হয় নি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার যে কোনও উপায়ে নির্বাচনকে নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মান্না বলেন, আমরা যখন সরকারের সঙ্গে দেখা করি প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই বলেন, নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে আমাদের কিছু বলার নেই। আমরা নির্বাচন কমিশনারের কাছে গিয়ে যা বলেছি নির্বাচন পেছানোর ব্যাপারে অসংখ্য যুক্তি আছে। বিশেষ করে ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে সারা ইউরোপ আমেরিকায় উৎসব হয়। এখানে আমাদের পর্যবেক্ষকদের আসার কথা থাকলেও তারা আসতে পারবেন না। এতে সারাবিশ্ব থেকে এক ধরনের বিচ্ছিন্ন করে ভোট করার প্রচেষ্টা ঠিক নয়।
মান্না বলেন, সরকারি দল বলেছে নির্বাচন এক ঘণ্টাও পেছানো যাবে না, যা এক ধরনের হুমকিস্বরূপ। আমি এর নিন্দা জানাচ্ছি।
গতকাল বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে মান্না বলেন, নির্বাচন কমিশনের অসতর্কতায় নয়াপল্টনে গতকালের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, বুধবার বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ বাহিনীর নির্মম হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। একদিকে সরকার পক্ষ মনোনয়নপত্র বিক্রির নামে চারদিন ধরে সব রাস্তাঘাট বন্ধ করে উৎসব করল। সেই উৎসবের ফলে দুজন মারাও গেল। তখন কিন্তু পুলিশ কোনও কিছু করে নি। অথচ এদিকে দেখা গেল , বিরোধীদল বিএনপির মনোনয়নপত্র বিতরণ উপলক্ষে যখন নেতাকর্মীরা জমা হয়েছে তার একদিন আগে সড়ক পরিষ্কার রাখতে নির্বাচন কমিশন থেকে বিবৃতি এল এবং তার পরদিনই এই হামলা হল। আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত ছিল।
মান্না বলেন, আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, এই হামলার পর পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য সরকারি দলের হাত আছে। অসমর্থিত কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য খবরে জানা গেছে যে, যুবলীগ, ছাত্রলীগের কর্মীরা হেলমেট পড়ে, যে হেলমেট বাহিনী কোটা আন্দোলনের সময় তৎপর ছিল, নয়াপল্টনেও তৎপর ছিল। আমরা এই ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানাই।
ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম এ নেতা বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি বিরোধীদল যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে সরকার সেই কারণে উস্কানি দিচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ করব। আমাদের সিদ্ধান্,ত সব রকমের বাধা উপেক্ষা করে নির্বাচন করবো। সেই নির্বাচনে একটা ভোট বিপ্লব হবে এই স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে।
বৈঠকে ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের মহাসচিব মোস্তফা মহসীন মন্টু, ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, এ্যাড. সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



