
ঐক্যের ‘চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র’ মোকাবিলার ঘোষণা ১৪ দলের
হাসিবুর রহমান, রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্কঃ ঐক্যের সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা বলেছেন, জাতীয় ঐক্য হচ্ছে খুনিদের জোট, সন্ত্রাসীদের জোট। পলায়নের চ্যাম্পিয়ানের জোট। ওই জোটের নেতারা আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করতে পারে। তাদের প্রতিহত করতে সারাদেশে ১৪ দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তত থাকতে হবে। ডাক দিলেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চের কর্মীসভায় তারা এসব কথা বলেন। সভায় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বিএনপির অব্যাহত মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে জেলা ও বিভাগীয় শহরে সমাবেশের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আগামী ৯ অক্টোবর রাজশাহী, ১০ অক্টোবর নাটোরে, ১৩ অক্টোবর খুলনায় এবং এরপর ঢাকায় মহাসবেশ করবে ১৪ দল। এসময় নেতাকর্মীদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বাংলাদেশের জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল -জাসদ(ইনু) সাধারণ সম্পাদক শিরিন আকতার, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান, গণআজাদী লীগের এসকে সিকদার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার, পেশাজীবীদের মধ্যে নিম চন্দ্র ভৌমিক প্রমুখ।
আমির হোসেন আমু বলেন, কোনো মানুষ যদি নদীতে পড়ে যায় সে বাঁচার জন্য খড়কুটা যা পায় তা ধরে বাঁচতে চায়। খালেদা জিয়ার ২০ দল ডুবে যাচ্ছে, ওই খড়কুটা যুক্তফ্রন্ট-গণফ্রন্ট ওমুক ফ্রন্ট ধরে ধরে আজকে তারা যুক্তফ্রন্ট করতে চায়, তারা আজকে অনেক বড় জোট করতে চায়। কিন্তু কোনো জোটে কাজ হবে না। সবচেয়ে বড় জোট, মানুষের জোট। সেই জোট শেখ হাসিনার সঙ্গে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমস্ত ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এ দেশে গণতান্ত্রিক সরকার কায়েম হবে। তাই ১৪ দলের নেতাকর্মীদেরকে প্রতিজ্ঞা-শপথ নিয়ে আগামীতে প্রস্তুতি নিতে হবে। আন্দোলনের ক্ষমতা তাদের নেই। আন্দোলন তারা করবে না।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আবার চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের চক্রান্তের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঘর থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। নেতাকর্মীদের সাবধানে থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। আপনারা ডাক দিলেই ঘর থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। ডাক দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে বেড়িয়ে আসার প্রস্তুতি নিয়ে থাকুন।
১/১১ এর কুশিলবরাই আবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করে রাশেদ খান মেনন বলেন, আজকে আমরা সমবেত হয়েছি নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য, প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটি মহল এই মহানগর নাট্যমঞ্চে কয়েকদিন আগে হাতে হাত মিলিয়েছে। তাদের জবাব দিতে। এরা কারা? এরাই ১/১১ এর সেনা শাসিত সরকারের পরামর্শ দাতা। বিভিন্ন দল থেকে বাদপড়া, বহিষ্কার হওয়া নেতারা আজকে ঐক্যে যুক্ত হয়েছেন। তারাই ১/১১ এর সরকারে কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন, আবার তারা ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন যদি কিছু পায়।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, তারা ঐক্য করেছে, কিসের ঐক্য। তারা বাঘ মারার ডর দেখাচ্ছে। এই কামাল হোসেন পল্টনে জেনারেল ওসমানির জনসভার আগের দিন দেশ থেকে পালিয়ে গেল। বি চৌধুরী বঙ্গভবন থেকে দৌড়ে মহাখালীর রেল লাইনে পালালো। আর আরেক পালানোর নায়ক তারেক রহমান। যিনি অর্থ পাচার করে বিদেশে পালিয়ে আছে। এটা পালায়নের চ্যাম্পিয়ানদের ঐক্য। আজম খানের গানে আছে, ‘বাঘ মারতে যামু, আমি আর মামু’। বাঘ মারতে যাওয়ার ডর আমাদের দেখিয়ে লাভ হবে না। সব ষড়যন্ত্র রুখেই দেশে নির্বাচন হবে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সামনে নির্বাচন আসছে, যথা সময়েই নির্বাচন হবে। নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। নির্বাচনের বিকল্প কিছু হতে পারে না। নির্বাচনের বিকল্প যা হয়, তাতে মানুষের কল্যাণ হয় না। যা ১/১১ সময়ে প্রমাণিত হয়েছে। ষড়যন্ত্রের ডাল ভেদ করে সঠিক সময়েই নির্বাচন হবে।
শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিষ্টাররা এক হয়ে রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র চক্রান্ত শুরু করেছেন। ড. কামাল হোসেন, বি চৌধুরী, মান্না সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করছেন। ১৪ দলের নেতাকর্মীরা যে কোন ষড়যন্ত্র চক্রান্ত প্রতিহত করবে।
শিরিন আকতার বলেন, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতার উপর যখনই আঘাত এসেছে, তখনই ১৪ দল লড়াই করে তা রক্ষা করেছে। আগামীতেও জাতীয় ঐক্যের নামে যারা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে তাদের প্রতিহত করবে ১৪ দল। তিনি বলেন, বি চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন হচ্ছেন ষড়যন্ত্রকারী চক্র। নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করা হলে তাদের প্রতিহত করা হবে।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, জাতীয় ঐক্যের নেতারা বসন্তের কোকিলের মতো। যখনই বসন্ত ভাব দেখেন, তখনই তারা কুহু কুহু ডাক দেন। ড. কামাল হোসেন, বি চৌধুরীরা হচ্ছেন ১/১১ মাইনাস টু ফর্মুলার নায়ক। সে সময়ে ব্যর্থ হয়ে তারা আবার জোট গঠন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে জাতি নেই। রাজনীতিতে প্রত্যাখ্যাত কিছু নেতারা জোট গঠন করে দেশের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ওরা নির্বাচন বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু ১৪ দলের নেতাকর্মীরা তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবেই।
আবদুর রহমান বলেন, রাজনীতিতে হতাশাগ্রস্ত, রাজনীতিতে নিক্ষিপ্ত, জনবিচ্ছন্নরা একত্রিত হয়ে জোট গঠন করে দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া এবং পলাতক তারেক রহমানকে রক্ষা করতে চাইছেন। দেশে কোন সহায়ক সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না। স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। সেই সরকারের প্রধান থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারো দাবি মেনে নেয়া হবে না।
সমাবেশে ব্যাপক শোডাউন: কর্মীসভা ডাকা হলেও নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জনসভায় রুপ নেয়। দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগসহ শরীক দলের নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করে। ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজলের নেতৃত্বে দুপুর ২টায় ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে ১৪ দল আয়োজিত কর্মীসমাবেশে বাদ্য যন্ত্র ও মিছিল সহকারে যোগ দেন। এ সময় প্রায় ৫শতাধিক নেতাকমী বর্তমান সরকারের উন্নয়নে তুলে ধরে ‘নৌকা-শেখ হাসিনা’ স্লোগান দেয়। তাদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে নাট্যমঞ্চের অডিটোরিয়াম। একইভাবে ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলুসহ রাজধানীর প্রতিটি থানা-ওয়ার্ড থেকে বাদ্য বাজনা ও মিছিল সহকারে ১৪ দলের সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কর্মীসমাবেশস্থল মহানগর নাট্যমঞ্চে।



