
ওয়াইফাই রাউটার এবং অ্যাক্সেস পয়েন্ট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা
মোঃ জাহিদুল ইসলাম
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট ছাড়া আমাদের একদিন তো দূরের কথা এক মুহূর্তও চলা অসম্ভব। আর এই ইন্টারনেটকে আমাদের হাতের মুঠোয় সহজলভ্য করে তুলেছে ওয়াইফাই প্রযুক্তি। ঘরে, অফিসে কিংবা রেস্তোরাঁয়—সবখানেই এখন ওয়াইফাইয়ের ব্যবহার সবার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওয়াইফাইয়ের (Wi-Fi) পূর্ণরূপ হলো ওয়্যারলেস ফিডেলিটি (Wireless Fidelity)। সহজ ভাষায় একে “তারবিহীন বিশ্বস্ততা” বা “তারহীন ইন্টারনেট সংযোগ প্রযুক্তি” বলা হয়। এটি রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে কোনো তার ছাড়াই উচ্চগতির ইন্টারনেট সরবরাহ করে থাকে। বর্তমান নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থায় ওয়াইফাই রাউটার একটি কেন্দ্রীয় চালিকাশক্তি। ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে কোনো প্রকার ফিজিক্যাল ক্যাবল বা তার ছাড়াই একাধিক ডিভাইসে ইন্টারনেট শেয়ার করা যায়। এটি একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বা সীমানার মধ্যে কাজ করে, যা সাধারণত রাউটারের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। এটি মূলত ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) থেকে আসা নেটওয়ার্ক সংযোগকে একাধিক তারবিহীন ডিভাইসে সুষমভাবে বণ্টন করে থাকে। এই ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটিমাত্র কানেকশন থেকে একই সাথে মোবাইল, ল্যাপটপ, স্মার্ট টিভি এবং পিসি চালানো সম্ভব। এটি ছাড়া আধুনিক স্মার্ট হোম ও কর্মক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন ও তারমুক্ত ইন্টারনেট সংযোগ অসম্ভব। নেটওয়ার্কে রাউটার মূলত সংযোগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে থাকে। অর্থাৎ এটি একটি লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) তৈরি করে, যার মাধ্যমে ঘরের বা অফিসের সব স্মার্ট ডিভাইস একে অপরের সাথে এবং ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হতে পারে। আবার ট্রাফিক ও ডেটা নিয়ন্ত্রণক হিসেবে নেটওয়ার্কে রাউটারের প্রধান কাজ হলো একাধিক ডিভাইসের মধ্যে ডেটা প্যাকেটগুলো নির্ভুল ও দ্রুততম পথে গন্তব্যে পৌঁছানো। এই রাউটার নেটওয়ার্ক অ্যাড্রেস ট্রান্সলেশন (NAT) করে একটিমাত্র পাবলিক আইপি অ্যাড্রেসকে ভাগ করে ঘরের ভেতরের প্রতিটি ডিভাইসের জন্য আলাদা লোকাল আইপি অ্যাড্রেস তৈরি বলেই একসাথে একাধিক ডিভাইস ব্যবহার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে সুরক্ষা ও ফায়ারওয়াল হিসেবে আধুনিক রাউটারগুলোতে বিল্ট-ইন ফায়ারওয়াল থাকে। এটি সাইবার আক্রমণ, হ্যাকিং ও ক্ষতিকর ট্রাফিক থেকে ভেতরের নেটওয়ার্ককে সুরক্ষিত রাখে। এই রাউটারের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট হিসেবে রাউটারের অ্যাডমিন প্যানেল থেকে নির্দিষ্ট ডিভাইসের ইন্টারনেট অ্যাক্সেস বন্ধ করা, ব্যান্ডউইথ নিয়ন্ত্রণ করা এবং অতিথিদের জন্য আলাদা ‘Guest Wi-Fi’ সেটআপ করা যায়। ওয়াইফাই রাউটার ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত ডেটা প্যাকেটকে রেডিও সিগন্যালে রূপান্তর করে এবং ওয়্যারলেস লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (WLAN) তৈরি করে। রাউটারগুলো মূলত দুটি প্রধান ফ্রিকোয়েন্সিতে (2.4 GHz এবং 5 GHz ব্যান্ড) কাজ করে। 2.4 GHz ব্যান্ড বেশি দূরত্বে সিগন্যাল দিতে পারে এবং দেয়াল ভেদ করতে পারে। অন্যদিকে, 5 GHz ব্যান্ড কম দূরত্বে সিগন্যাল দিলেও ডেটা ট্রান্সফার রেট বা গতি অনেক বেশি থাকে। সিগন্যালের মান -30 dBm (সবচেয়ে ভালো) থেকে -90 dBm (খারাপ) এর মধ্যে মাপা হয়। প্রতিটি ব্যান্ডে একাধিক নেটওয়ার্ক চ্যানেল থাকে। পাশাপাশি অবস্থিত অন্য কোনো রাউটার যদি একই চ্যানেল ব্যবহার করে, তবে সিগন্যালের মধ্যে ইন্টারফেয়ারেন্স বা সংঘর্ষ হয়। রাউটার এডমিন প্যানেল থেকে সঠিক চ্যানেল নির্বাচন করে সিগন্যালের মান বাড়ানো যায়। ওয়াইফাই সিগন্যাল খুব সহজেই দেয়াল, মেটাল, বা অন্য কোনো ভারী আসবাবপত্র দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া মাইক্রোওয়েভ ও কর্ডলেস ফোনের সিগন্যালও ওয়াইফাই সিগন্যালে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। রাউটারকে ঘরের একদম কেন্দ্রে এবং মেঝে থেকে কিছুটা উঁচুতে রাখলে সবচেয়ে ভালো কভারেজ পাওয়া যায়। বড় জায়গার ক্ষেত্রে ওয়াইফাই রিপিটার বা ওয়াইফাই মেশ সিস্টেম ব্যবহার করতে হয়। অপরদিকে আমাদেরর ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সেটিং যদি সঠিকভাবে কনফিগার করা না থাকে, তবে কিন্তু আমরা কাঙ্ক্ষিত স্পিড পাব না। আবার ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে কনফিগারেশনের ত্রুটির কারণে অথবা অপরিচিত ব্যবহারকারীদের রাউটারের ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিলে হ্যাকিংয়ের শিকার হবার সম্ভাবনা রয়েছে। সুরক্ষিত থাকার কিছু উপায়গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শক্তিশালী ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। ওয়াইফাই নিরাপদ রাখতে পাসওয়ার্ডে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং স্পেশাল ক্যারেক্টার, যেমন: @, #, $, % ব্যবহার করা উত্তম। সাধারণ সংখ্যা যেমন- ১২৩৪৫৬৭৮ বা নিজের মোবাইল নাম্বার পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার না করাই ভালো। পাশাপাশি রাউটার সেটিংসে গিয়ে সিকিউরিটি টাইপ ওয়াইফাই প্রোটেক্টেড অ্যাক্সেস-২ (WPA2) বা ওয়াইফাই প্রোটেক্টেড অ্যাক্সেস-৩ (WPA3) সিলেক্ট করে রাখা ভাল। এই WPA2 এবং WPA3 হলো ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক



