
আজাদুর রহমান
কথার আঘাতে কেটে গেছে আপনার শরীর,
কাটা শরীর নিয়ে আপনি ক্লিনিকে গেছেন।
বেশ কিছু টেস্ট করা হয়েছে।
খলিলুর রহমানের চেম্বার পাঁচতলায়—
তিনি রিপোর্টগুলো দেখলেন,
তাকালেন চোখ নরম করে।
বললেন—ভয়ের কিছু নাই।
তারপরও কিছু ঔষধ লিখে দিচ্ছি,
ভালো ঘুম হলে দেখবেন, সব ঠিকঠাক,
আগের মতো সবকিছু।
…দেখুন, পৃথিবীর পরিস্থিতি ভালো না!
কারোরই ঘুম ভালো হচ্ছে না!
…আপনি নিচে এসে রিকশা নিলেন,
সত্যি, শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই।
আপনি হেসে ফেললেন—
ঠিক সেই মুহূর্তে অন্যরকম হয়ে গেল শহরটা,
চারপাশে সবুজ সবুজ গাছ, গাছে গাছে পাখি,
পাখিদের কিচিরমিচির শুনতে পেলেন!
মন ভালো হয়ে গেল আপনার।
প্রেসক্রিপশনটা আপনি ভাসিয়ে দিলেন হাওয়ায়।
কাকরাইল পার হয়ে বেইলি রোড,
তারপর হলি ফ্যামিলি… রিক্সাটা আর যাচ্ছে না,
মগবাজার মোড়ে এক মধ্যবয়সি
রক্তে গড়াগড়ি খাচ্ছে।
কথার আঘাতে কাটা পড়েছে সে।
চারদিক থেকে যারা তাকে দেখছে
তাদেরও শরীর রক্তাক্ত, ঠিক আপনার মতো—
কথার আঘাতে রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত।



