
কিভাবে ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেল?
গেল ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির অগ্রগতি নিমিষেই হয়ে গেছে ঘোলাটে। গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ পুরোদমে চলাচল শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে সব ভেস্তে গেল যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধ তুলে না নেওয়ায়। এতেই ফের হরমুজ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
এদিকে গেল শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের পক্ষ থেকে আসা ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছিলেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং পূর্ণ চলাচলের জন্য প্রস্তুত, ধন্যবাদ।
এর আগে প্রণালিটি আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে ইঙ্গিত করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্যোশাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছে, ইরান জাহাজ চলাচলের রুটগুলো সমন্বয় করবে।
এই পোস্টের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ শতাংশ কমে যায়। তারপরই আবার উত্তেজনা দেখা যায় উভয়দেশের মধ্যে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ আরাগচির সমালোচনা করে জানিয়েছে, প্রণালিটি পারাপারের শর্ত, বিস্তারিত বিবরণ এবং কার্যপ্রণালী সম্পর্কে অস্পষ্টতা তৈরি করেছেন।
এরপর ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে ‘লেনদেন’ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ ‘পুরোদমে’ অব্যাহত থাকবে।
এর ২৪ ঘণ্টা পর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অবরোধের কারণে প্রণালীটি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়াকে শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ্য করে আইআরজিসি।
এতেই বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম নৌ-রুটটি পুনরায় চালু হওয়ার সংক্ষিপ্ত যে আশা জেগেছিলো তা নিমিষেই শেষ হয়ে যায়। শুধু পুনরায় বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আর কোনো বিষয়েই একমত নয় বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।



