
কেন বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যর দাম?
পেঁয়াজের পর একে একে চাল, ডাল, ময়দা, আটা, সয়াবিন তেল, ডিমসহ নানা পণ্যের মূল্য এখন এমন পর্যায়ে রয়েছে যে, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) বুধবার সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছে। গেল সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির পর এখন বেশকিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে।
শীতকালীন শাক-সবজিসহ ২০টি নিত্যপণ্যের দাম অসহনীয় উল্লেখ করে সেগুলোর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকারকে তাগিদ দিয়েছে ক্যাব। বস্তুত শীতকালীন সবজির দাম কেন ক্রেতাসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে তার যেমন কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নেই, তেমনি ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না অন্যান্য নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যের। এর শুরুটা হয়েছিল পেঁয়াজ নিয়ে। পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকটকে পুঁজি করে অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, আমদানিকারক, আড়তদার, মজুদদার ও খুচরা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করে ভোক্তাদের পকেট থেকে হাতিয়ে নিয়েছে শত শত কোটি টাকা।
সরকারি নানা উদ্যোগের পরও পেঁয়াজের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয় নি, ফলে এর দাম এখনও আকাশছোঁয়াই রয়ে গেছে। পেঁয়াজের পাশাপাশি গত ১ মাস ধরে ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে চালের মূল্য ।ঢাকায় কেজি প্রতি ২ থেকে ৮ টাকা অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে চাল। অন্যদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম ডজন প্রতি বেড়েছে ২০ টাকা। কদিন আগে লবণের দামও হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছিল, যদিও লবণের দাম এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ক্যাব বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। সেটা সঠিক হলে দেশে পণ্যর মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ থাকবার কথা নয়। বস্তুত পুরোটাই ব্যবসায়িক কারসাজি। এ কারসাজির মাধ্যমে একদিকে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট অতি মুনাফা করছে, অন্যদিকে তারা বিব্রত করছে সরকারকেও। ক্যাব সভাপতি নিত্যপণ্যর মূল্য স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে কতগুলো পরামর্শ দিয়েছেন, যা প্রণিধানযোগ্য।
বলা হয়েছে, প্যাকেটজাত ও বস্তাজাত পণ্যের সর্বোচ্চ বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করে তা গায়ে লেখা বাধ্যতামূলক করা হলে ভোক্তারা উপকৃত হবেন। ক্যাব ভোক্তা স্বার্থ অধিকার রক্ষায় স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় অথবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠারও দাবি জানিয়েছে।
এ দাবিটি সরকারের বিবেচনায় রাখা দরকার। তার চেয়েও বড় কথা, বাজারে নিত্যপণ্যর মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে নজরদারির কোনও বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যক্রমও দৃশ্যমান হওয়া দরকার।
