
খালেদা জিয়া ঐক্যের জয়ের বিষয়ে আশাবাদী
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যের জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। তিনি এই ঐক্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার বিএনপির পাঁচ শীর্ষ নেতা বিকেলে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে সাক্ষাৎ করতে গেলে খালেদা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে আরও বেশ কিছু ‘গুরুত্বপূর্ণ বার্তা’ দিয়েছেন সাক্ষাৎকারী দলের নীতিনির্ধারক নেতাদের। সামনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দল, ২০ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ‘ধীরেসুস্থে’ বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। যাতে কোনও ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের সুযোগ সরকারি দল নিতে না পারে।
কারাগার থেকে বের হয়ে খালেদা জিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, জনগণের জন্য যে ঐক্য করা হয়েছে, তা নিয়ে এগিয়ে যেতে বলেছেন চেয়ারপারসন। খালেদা জিয়া সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। সূত্র জানায়, আসন বণ্টনের ব্যাপারে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীসহ সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে একটি ‘সারসংক্ষেপ’ নিয়ে গেছেন দলের মহাসচিব। সাক্ষাৎকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আগামী নির্বাচন, আসন বণ্টন ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সাক্ষাৎকারী নেতারা। ২০ দলীয় জোটের আসন বণ্টনের ব্যাপারে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের সময়ে কোন্ দলকে কত ও কোন্ আসন এবং কোন্ প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছিল, তা বিবেচনায় এনে এবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। একইসঙ্গে কারাগারে যাওয়ার আগে তার তৈরি করা বিএনপির দেড়শ’ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার তালিকা অনুসরণ করতে বলেছেন তিনি। নতুন করে কোনও আসন নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বসে তা নিরসন করতে বলেছেন খালেদা জিয়া।
এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মামলা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে আইনগত সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন সাক্ষাৎ করতে যাওয়া আইনজীবী দুই নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ ও ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। তারা বলেন, সরকার কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করলে উচ্চ আদালতে সাজা স্থগিতাদেশের আবেদন করলে এবং তা শুনানির জন্য গ্রহণ করলেই তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। জবাবে খালেদা জিয়া দ্রুত উচ্চ আদালতে আবেদন করার পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে।
বিকেল ৩টা থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারী ৫ নেতার মধ্যে অন্য দুই নেতা হলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মির্জা আব্বাস।
সাক্ষাৎ শেষে মির্জা ফখরুল বলেছেন, তিনি আমাদের জন্য দোয়া করেছেন। নির্বাচন নিয়ে আর কোনও কথা হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে ‘না’ সূচক জবাব দেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। তার শারীরিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ, অনেকদিন পর তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পেলাম। তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেখান থেকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছে, এটা অমানবিক। চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে তাকে আবার বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নিয়ে তার চিকিৎসার সুব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানান।
দলীয় নেত্রীর শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, চার দিন তাকে থেরাপি দেওয়া হয় নি। ফলে ব্যথা আরও বেড়ে গেছে।



