
শেখ হাসিনাকে নিয়ে চলচ্চিত্র ‘হাসিনা: আ ডটারস্ টেল’ শুক্রবারে
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারি ফিল্ম ‘হাসিনা: আ ডটারস্ টেল’ আগামী শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে। রাজধানীর ব্লকবাস্টার সিনেমাস, স্টার সিনেপ্লেক্স, মধুমিতা ও চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিন সিনেমা হলে ডকুমেন্টারি ফিল্মটি একযোগে মুক্তি দেওয়া হবে। আগেও শেখ হাসিনার জীবনী নিয়ে একাধিক নির্মাতা তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। কিন্তু এই প্রথম তাকে নিয়ে দীর্ঘ ব্যাপ্তির কোনও চলচ্চিত্র নির্মিত হলো। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রয়াসে ডকুফিল্মটি নির্মাণ করেছেন রেজাউর রহমান খান পিকলু। ৭০ মিনিট ব্যাপ্তির এই ডকুমেন্টারি ফিল্মটিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুঃখ-বিষাদ, ব্যক্তিগত আখ্যান আর নৈকট্যের গল্পগুলো তুলে ধরেছেন নিজস্বতায়। একটি স্বাধীন ও তাৎপর্যময় দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে তুলে এনেছেন একজন অনন্য নায়কের জীবনের আরেক অধ্যায়। যা তার একান্ত ব্যক্তিগত হয়েও একটি জনপদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কখনও বঙ্গবন্ধুকন্যা, কখনও জননী, কখনও বোন, কখনও গণমানুষের ত্রাতারূপে আবির্ভূত হন যে জননেত্রী- তারই একটি প্রতিকৃতি হয়ে উঠেছে এই ডকুমেন্টারি ফিল্ম।
রেজাউর রহমান খান পিকলু বলছিলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ইতিহাসের প্রকৃত প্রবাহকে প্রতিনিধিত্ব করেন শেখ হাসিনা। তার উত্থান নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে। এই চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে সেই রাজনৈতিক পালাবদল আর রক্তাক্ত ইতিহাসের কথা- যার পরতে পরতে রয়েছে অশ্রু আর ক্ষরণ। ‘হাসিনা: আ ডটারস্ টেল’ চলচ্চিত্রে তাই দেখা যাবে অনন্য সাধারণ এক ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনাকে। যিনি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতির পরিচয়ের বাইরেও ভিন্ন এক মানুষ।
আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) ও অ্যাপেলবক্স ফিল্মসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘হাসিনা: আ ডটারস্ টেল’ চলচ্চিত্রটি। রেজাউর রহমান খান পিকলুর পরিচালনায় এর সিনেমাটোগ্র্যাফি করেছেন সাদিক আহমেদ। সম্পাদনা করেছেন নবনীতা সেন এবং সঙ্গীত আয়োজন করেছেন কোলকাতার সঙ্গীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্র।
রেজাউর রহমান খান পিকলু জানিয়েছেন, এই ডকুমেন্টীরি ফিল্মটির মাধ্যমে তিনি একটি সত্যনিষ্ঠ ঘটনাকে পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছেন। যে জন্যে প্রধানমন্ত্রী নয়, একজন সাধারণ শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমনের কন্যা এই চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পুরোপুরি স্বাধীনতা দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, ছবিটি তিনি যেভাবে দেখাতে চান, সেভাবেই যেন কাজটা করেন। কোনও নিয়মনীতির ছক তৈরি করে দেন নি। তারপরও দীর্ঘ পাঁচ বছর গবেষণার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে কাজটি করতে হয়েছে। যেহেতু শেখ হাসিনা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সে কারণে ইতিহাসের নানা ঘটনা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ক্ষমতার পালাবদল, ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গিসহ প্রতিটি বিষয়ে গবেষণা করতে হয়েছে। কাজটি চ্যালেঞ্জিং বলেই এতটা সময় ও শ্রম দিতে হয়েছে।
পিকলু আরও বললেন, তিনি সৌভাগ্যবান এ কারণে যে, এত কিছু করার পূর্ণ স্বাধীনতা তিনি পেয়েছেন। সহযোগিতা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের। তাদেরও দেখা যাবে এ চলচ্চিত্রে। সবমিলিয়ে সত্যনিষ্ঠভাবে প্রতিটি ঘটনা এই ডকুমেন্টারি ফিল্মটিতে স্থান পেয়েছে। সে কারণে রেজাউর রহমান খান পিকলু বিশ্বাস করেন, ফিল্ম ‘হাসিনা: আ ডটারস্ টেল’ চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের চলচ্চিত্রপ্রেমীর ভাবনার খোরাক হবে এবং মন জয় করবে।



