
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: আজ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন।
২০১১ সালের সেপ্টেস্বর মাসে হুমায়ূন আহমেদের শরীরে মরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। সেবার সুস্থ্য হয়ে দেশে ফিরলেও রোগের প্রপোক বাড়লে পরের বছর আবারও নিউ ইয়র্ক যান। সেখানে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটায় হুমায়ুন আহমেদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালে তিনি জন্মেছেন। ১৯৭২ সালে হুমায়ুন আহমেদের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশ পেল বইটি প্রচুর পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে। সাহিত্যর সকল শাখাতেই হুমায়ুন আহমেদ সমান বিচরণ করেছেন। তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো অনুকরণীয় হয়ে উঠেছিল। পেশায় শিক্ষক হুমায়ুন আহমেদ নব্বই দশকের মাঝামাঝি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে পুরোপুরিভাবে লেখালেখি শুরু করেন। নিউইয়র্ক হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তিনি জীবনের শেষ উপন্যাস, ‘দেয়াল’ উপন্যাসটি লিখেছিলেন।
হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে আজ সারাদিন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। টিভিতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। গতকাল রাত ১২টা এক মিনিটে হুমায়ূন আহমেদের বাসা দখিন হাওয়ায় কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন পরিবারের সদস্যরা।
হুমায়ুন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত নুহাশ পল্লীর পক্ষ থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আজ বিকালে পাবলিক লাইব্রেরী প্রাঙ্গণে শুরু হবে সপ্তাহব্যাপী হুমায়ূন আহমেদ বইমেলা। জাতীয় জাদুঘর আয়োজন করেছে হুমায়ূনকে নিয়ে সেমিনারের। চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে ‘হুমায়ূন মেলা’। সকাল ১১টায় হিমুপ্রেমিরা হলুদ পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে উপস্থিত থেকে হলুদ বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করবেন। উপস্থিত থাকবেন হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন অঙ্গনে তার ভক্ত ও বিশিষ্টজনরা। তার স্মরণে স্মৃতিকথা বলবেন অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা। নৃত্য পরিবেশন করবে চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে ও অন্য নৃত্যশিল্পীরা। মেলার স্টলগুলোতে থাকবে হুমায়ূন আহমেদের বই, তার নির্মিত চলচ্চিত্র ও নাটকের ভিডিও সিডি। মেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল আই ও রেডিও ভূমি।
হুমায়ূন আহমেদ একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচিত্র নির্মাতা হিসেবে অবদান রেখে গেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সেরা লেখকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত তিনি। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও সফল তিনি। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিন শতাধিক। বাংলা উপন্যাসে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসুদন পদক, জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদকসহ আরও অনেক সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন হুমায়ুন আহমেদ। ১৯৯২ সালে শঙ্খনীল কারাগার চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন হুমায়ূন আহমেদ। এছাড়া হুমায়ূন কাদিও স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন। দেশের বাইরেও তাকে নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তার প্রমাণ জাপান টেলিভিশন ‘এনএইচকে’ তাকে নিয়ে নির্মাণ করেছে পনেরো মিনিটের তথ্যচিত্র ‘হু ইজ হু ইন এশিয়া’। হুমায়ুন আহমেদ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শ্যামল ছায়া ছবিটি অস্কারে গিয়েছিল।



