
যে কোনো মূল্যে আগামীকাল শনিবার খুলনা বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করতে অনড় অবস্থানে বিএনপি। ১০ লাখ লোকসমাগমের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এরই মধ্যে গণসমাবেশের জন্য খুলনা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সোনালী ব্যাংক চত্বরে অনুমতি দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে পরিবহন বন্ধসহ নানা রকম বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন খুলনামুখী। তারা গণসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে আগে থেকেই খুলনায় যাচ্ছেন।
অনেক নেতাকর্মী শুকনো খাবার ও পানির বোতল নিয়ে রওনা দিয়েছেন। অনেক নেতাকর্মী এরই মধ্যে পৌঁছে গেছেন। সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা বলছেন, আজ শুক্রবার বিকেল বা রাতের মধ্যেই খুলনা বিভাগের ১০ জেলার কয়েক লাখ নেতাকর্মী খুলনা শহরে পৌঁছে যাবেন।
এদিকে ঢাকা থেকেও ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির সিনিয়র কিছু নেতাকর্মী খুলনা পৌঁছে গেছেন। তারা মিনিবাস ও মাইক্রোবাস ভাড়া করে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই খুলনা গেছেন। অনেকেই আজকের মধ্যে খুলনা যাবেন।
ঢাকা থেকে মিনিবাস রিজার্ভ করে খুলনা গেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদসহ ২৮ জন। রাজু আহমেদ খুলনা থেকে জানান, ভোররাত ৩টায় তারা ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে সকাল ৭টায় খুলনা শহরে পৌঁছে গেছেন। একই গাড়িতে করে আবার তারা ঢাকায় ফিরবেন।
রাজু জানান, এরই মধ্যে বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য নেতাকর্মী খুলনায় পৌঁছে গেছেন। তবে পুলিশ গত রাতে খুলনা শহরে বিভিন্ন হোটেল ও বাসাবাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে গেছে বলে জানান রাজু।
উল্লেখ্য, সরকারের চাল, ডাল, জ্বালানি তেল, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধি, চলমান আন্দোলনে ভোলায় নুরে আলম ও আব্দুর রহিম, নারায়ণগঞ্জে শাওন, মুন্সীগঞ্জে শহিদুল ইসলাম শাওন ও যশোরে আবদুল আলিম—মোট পাঁচজন নিহতের প্রতিবাদে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বিএনপি। এরই মধ্যে গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে ও ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহে গণসমাবেশ করেছে দলটি।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আলোকে আগামীকাল ২২ অক্টোবর খুলনা, ২৯ অক্টোবর রংপুর, ৫ নভেম্বর বরিশাল, ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে গণসমাবেশ হবে। সবশেষে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ।
খুলনা বিভাগীয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার আমাদের গণসমাবেশ বানচাল করতে নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে পরিবহন মালিকদের চাপ প্রয়োগ করে যান চলাচল বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে তল্লাশি ও আটক করা হচ্ছে। তবে কোনোক্রমেই আমাদের গণসমাবেশ ব্যাহত করা যাবে না। আমরা যে কোনো মূল্যে গণসমাবেশ সফল করব।
খুলনা বিভাগীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমরা গণসমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আশা করছি, অভূতপূর্ব গণসমাবেশ হবে খুলনায়।



