যুক্তরাষ্ট্র

চীনই ট্রাম্পের প্রধান টার্গেট লক্ষ্য, মহামারী নয়

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৬৩ হাজার অতিক্রম করেছে। এ সংখ্যা বিশ্বের মোট মৃতের সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ।

এদিকে করোনাভাইরাসের জন্য চীনকে দায়ী করে আক্রমণ করেই চলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার রাজনৈতিক মিত্ররা। তাদের দাবী ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের শুরুতে চীন তা গোপন করেছে বলেই এ মহামারী। তারা মনে করেন এর দায় চীনকে নিতে হবে।

কদিন আগে চীনের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প।

বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নির্বাচনে তাকে পরাজিত করতেই চীন করোনা ছেড়েছে।

কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনও করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের কথা বলেছেন যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে বেইজিংয়ে।

ইউরোপিয় দেশগুলো এখনও ততটা সুস্পষ্ট করে চীনকে নিয়ে কিছু বলছে না, তবে সন্দেহ নেই যে বাদানুবাদ যত বাড়বে, মেরুকরণও বাড়বে।

কিন্তু এই সঙ্কটের মাঝে কেন চীনকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এতটা উৎসাহী হয়ে ওঠার কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিবিসির যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি ডেভিড উইলিস বলন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলতে চেয়েছেন যে, চীন উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ভাইরাসের কথা অনেকদিন চেপে রেখেছিল যাতে এর সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়ায় নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি হেরে যান।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো বলছে, যেভাবে সরকার করোনাভাইরাস সামলাচ্ছে তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ-অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব নির্বাচনে পড়তে বাধ্য।

অর্থনীতি, কাজের সুযোগ বাড়ানোই ছিল মি. ট্রাম্পের রাজনীতির মুখ্য শক্তি, কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারীতে সৃষ্ট অর্থনৈতিক দুর্দশা নির্বাচনের বছরে তাকে কোণঠাসা করে ফেলছে।

চীন তাকে নির্বাচনে হারাতে চাইছে এই কথা বলার দিনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ একটি নির্বাচনী জরিপ নিয়ে তার পরামর্শকদের বেশ গালমন্দ করেন বলে জানা গেছে।

ওই জরিপে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডা, উইসকনসিন বা অ্যারিজোনার মত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে জেতা মি. ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে কুয়ালালামপুরে মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব চায়নার অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী বলছেন, ‘যে কোনও সুযোগেই চীনকে কোণঠাসা করা, দুর্বল করার চেষ্টা এখন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। চীনে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি ওয়াশিংটনকে নতুন আরেকটি মোক্ষম সুযোগ এনে দিয়েছে।’

ড. আলী বলেন , সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের যে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নেয়, তাতে পরিষ্কার বলা আছে, আর কোনদিনই বিশ্বের কোথাও তারা এমন কোনও শক্তিকে মাথাচাড়া দিতে দেবে না যারা আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।

ড. আলী আরও বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই চীনকে তারা ভবিষ্যতে সেই ধরণের একটি চ্যালেঞ্জ মনে করছে।’

‘বিশেষ করে এখন আমেরিকান প্রশাসনের মধ্যে এমন একটি আশঙ্কা হয়তো দেখা দিয়েছে যে কোভিড-১৯ সৃষ্ট মহামারী মোকাবেলায় তাদের দুর্বলতা এবং অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে বিশ্বের কাছে তাদের মর্যাদা, প্রতিপত্তি আরও ক্ষুণ্ণ হবে, এবং সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে চীন।’

এদিকে, চীনের সরকারপন্থী চায়না ডেইলি  এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে, ‘অনর্থক চীনকে দোষারোপ করা বন্ধ করতে হবে আমেরিকাকে। এ মহামারী নিয়ে রাজনীতি করলে মানুষের প্রাণহানি বাড়বে, এছাড়া আর কোনও লাভ হবে না।’◉

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension