ভারত

চীনের কাছে নমনীয় মোদি!

ভারতীয় প্রশাসনকে হঠাৎ করেই যেন সীমান্ত সমস্যা ব্যস্ত করে তুলেছে। একদিকে নেপালের সঙ্গে মানচিত্র নিয়ে সমস্যা, অন্যদিকে চীনা সৈন্যদের সঙ্গে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের হাতাহাতির ঘটনা। উভয় সীমান্তেই ভারতীয়দের রক্ত ঝরেছে।

নেপালের পুলিশের গুলিতে এক ভারতীয় নিহত হয়েছে। অপরদিকে চীনা সেনাবাহিনীর রড ও পাথরের আঘাতে ২৩ জন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। এ দুই ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছেন।

লাদাখের বিতর্কিত সীমান্তে চীনা সৈন্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানি বৃথা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন মোদি।

তিনি বলেন, সোমবার লাদাখ অঞ্চলে চীনাদের সঙ্গে লড়াইয়ে আমাদের সৈন্যদের প্রাণহানি ভারতকে গর্বিত করবে।

এই সংঘাতের ব্যাপারে প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত শান্তি চায়। কিন্তু উসকানি দেওয়া হলে ভারত যে কোনও পরিস্থিতিতে উপযুক্ত জবাব দিতে সক্ষম। চীনাদের সঙ্গে লড়াই করে আমাদের সৈন্যরা মারা গেছেন। আমাদের দেশ এটার জন্য গর্বিত।

মোদি আরও বলেন, তিনি জাতিকে আশ্বস্ত করতে চান যে, সৈন্যদের প্রাণহানি বৃথা যাবে না। আমাদের কাছে দেশের ঐক্য এবং সার্বভৌমত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও বিশ্লেষকদের মতে, মোদি জাতীয় গর্বের আশ্রয় নিয়ে ভারতীয় সেনাদের নিহত হওয়ার বিষয়টির গুরুত্ব আড়াল করতে চাইছেন। পাকিস্তানের গুলিতে ভারতীয় কোনও সেনা নিহত হলে মোদি যে সুরে কথা বলেন, চীনের ক্ষেত্রে তা দেখা যায় নি। উল্টো তার বক্তব্যে কিছুটা নমনীয়তা দেখতে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের অনেকে বলছেন, চীনের মাটিতে ভারত তার সীমান্তরক্ষীদের বদলা নেবে কি না, নাকি কূটনৈতিক পর্যায়েই সমাধানের পথে হাঁটবে, এর ওপরই নির্ভর করবে চীনের সঙ্গে ভারতের আগামীর সম্পর্ক। মোদি চোখের বদলে চোখ নিতে গেলে পরাশক্তিধর দেশ চীনের সঙ্গে লড়াই বাধবে। আর কূটনৈতিক পর্যায়ে সমাধান করতে চাইলে একে ভারতের দুর্বলতা ভেবে চীন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠবে। এই উভয় সংকট কীভাবে মোদি মোকাবিলা করেন, তাই এখন দেখার বিষয়।

ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কয়েকবার ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটলেও দুই পক্ষের মধ্যে একবারও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে নি।

নয়াদিল্লির অভিযোগ, গত মে মাসের শুরু থেকেই লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতর ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে চীনা সৈন্যরা। সেখানে তারা পরিখা খনন করে ও তাঁবু টানায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনেও জানানো হয়েছিল।

চীন এখন পর্যন্ত ভারতের ৩৮ হাজার বর্গকিলোমিটারের মতো এলাকা দখল করে রেখেছে বলে নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে। চীনা সেনারা কেবল গত এক মাসেই ৬০ বর্গকিলোমিটারের মতো জায়গা দখল করে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অজয় শুক্লা।

চলতি দফায় ভারত-চীন উত্তেজনা শুরু হয় ভূমি থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত একটি বিমান ঘাঁটির জন্য তৈরি করা কয়েকশ’ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ককে কেন্দ্র করে। ভারত ২০০৮ সালে তাদের ওই বিমান ঘাঁটিটি ফের সচল করেছিল। ⛘

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension