
জঘন্য আম্পায়ারিং ও আফগান অধিনায়কের বদান্যতায় হারা ম্যাচে জয় পেল পাকিস্তান
রূপসী বাংলা স্পোর্টস ডেস্ক : শেষ ওভারের থ্রিলারে আফগানিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে বড়সড় লাফ দিল পাকিস্তান৷ হেডিংলে’র উত্তেজক পাক-আফগান ম্যাচকে ঠিক এভাবে বর্ণনা করা যায় বটে, তবে অন্য একটা তত্ত্বও উঠে আসতে পারে ম্যাচের চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে৷ সেটা হল, জঘন্য আম্পায়ারিং, একাধিক ক্যাচ মিস ও আফগান অধিনায়ক গুলবদিন নায়েবের সন্দেহজনক সিদ্ধান্তের মিলিত ফল স্বরূপ নিশ্চিত হারা ম্যাচে জয় পেল পাকিস্তান৷
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা আফগানিস্তান নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটের বিনিময়ে ২২৭ রান তোলে৷ জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২ বল বাকি থাকতে ৩ উইকেটের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে যায় পাকিস্তান৷ ৪৯.৪ ওভারে ৭ উইকেটের বিনিময়ে ২৩০ রান তুলে নেয় সরফরাজরা৷
চলতি বিশ্বকাপে নিন্মমানের আম্পারিং নিয়ে জোর চর্চা চলথে৷ প্রতি ম্যাচেই ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হচ্ছেন কেউ না কেউ৷ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বল করার সময় অন্তত দু’টি সিদ্ধান্ত আফগানিস্তানের বিপক্ষে যায়৷ জোরালো আবেদন করেও আম্পায়ারের সমর্থন মেলেনি তিনবারই৷ রিভিউ না থাকায় আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না আফগানদের৷
২৮তম ওভারের শেষ বলে গুলবদিন নায়ের বল হ্যারিস সোহেলের ব্যাটের কানা নিয়ে উইকেটকিপার ইকরম আলি খিলের দস্তানায় জমা পড়ে৷ আম্পায়ার নাইজেল লং নায়েবের আবেদনে সাড়া দেননি৷ সেই সময় হ্যারিস ব্যাট করছিলেন ব্যক্তগত ১৭ রানে৷ পাকিস্তান দাঁড়িয়েছিল ৩ উইকেটে ১১৩ রানে৷ হ্যারিস শেষমেশ ব্যক্তিগত ২৭ রানে আউট হন৷ লো স্কোরিং ম্যাচে বাড়তি ১০ রানের মূল্য কতটা, তা উপলব্ধি করতে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই৷
৩৭তম ওভারের তৃতীয় বলে রশিদ খানের বল ঠিক উইকেটের সামনে ইমদ ওয়াসিমের প্যাডে লাগে৷ অথচ আম্পায়ার পল উইলসন রসিদের আবেদনে সাড়া দেননি৷ বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় স্পষ্ট আউট ছিলেন ইমদ৷ সেই সময় ১ রান করা ইমদই শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ জিতিয়ে দেন পাকিস্তানকে৷
অবশ্য একা ইমদকে কৃতিত্ব দিলে ভুল করা হবে৷ আফগান ফিল্ডারদের গোটা তিনেক ক্যাচ মিস এবং গুলবদিন নায়েবের অত্যন্ত সন্দেহজনক আচরণকেও দায়ি করতে হবে পাকিস্তানের ম্যাচ জয়ের জন্য৷ পিচে স্পিনারদের জন্য সাহায্য ছিল৷ আফগান স্পিনারদের সামলাতে গলদঘর্ম অবস্থা পাক ব্যাটসম্যানদের৷ এই অবস্থায় ৪৫তম ওভারে লেগস্পিনার সামিউল্লাহ শিনওয়ারি মাত্র ২ রান খরচ করেন৷ সব মিলিয়ে ৮ ওভারে তিনি খরচ করেন ৩২ রান৷
রশিদ ও মুজিবের সঙ্গে শিনওয়ারির ওভার বাকি থাকা সত্ত্বেও গুলবদিন নিজে বোলিং করতে আসেন ৪৬ তম ওভারে৷ অত্যন্ত দৃষ্টিকটু বোলিংয়ে ১৮ রান খরচ করেন৷ এর পরেও আফগানিস্তানকে লড়াইয়ে রাখেন রশিদ ও মুজিব৷ শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৬ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের৷ শিনওয়ারি ২ ওভার বোলিং বাকি থাকা সত্ত্বেও ৯ ওভারে ৬৫ রান খরচ করা গুলবদিন নিজে বল হাতে তুলে নেন এবং একই রকম নির্লজ্জভাবে একের পর এক স্লো ফুলটস উপহার দেন রিয়াজ ও ইমদকে৷ শিনওয়ারি নিজের শেষ ওভারে মাত্র ২ রান খরচ করেছিলেন৷ সেখানে গুলবদিন শেষ ওভারে ১৮ রান দেন৷ এই অবস্থায় স্পিনিং ট্র্যাকে গুলবদিনের শেষ ওভারে বল করতে আসা সন্দেহের অবকাশ রাখে বইকি৷
শেষ ওভারের তৃতীয় বলে ইমদ ওয়াসিমকে রানআউট করার সুযোগ ছিল নায়েবের সামনে৷ কিন্তু আসগরের ছোঁড়া সহজ বল মনে হয় ইচ্ছে করেই ছেড়ে দেন গুলবদিন৷ যেখানে উইকেট পেতে পারত আফগানিস্তান, সেখানে ওভার থ্রো’র সৌজন্যে ২ রান পেয়ে যায় পাকিস্তান৷ পরের বলে আবার স্লো ফুলটস এবং বাউন্ডারিতে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন ওয়াসিম৷ সব দেখে শুনে মনে হয় দায়িত্ব নিয়ে পাকিস্তানকে জিতিয়ে দেন আফগান অধিনায়ক নিজে৷ ৯.৪ ওভারে ৭৩ রান দিয়েও কোনও উইকেট পাননি গুলবদিন৷
ম্যাচের শেষে রামিজ রাজা শেষ ওভারে শিনওয়ারির বদলে তাঁর বল করতে আসা নিয়ে প্রশ্ন করলে, সুকৌশলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান তিনি৷ প্রসন্নবদনে স্পিনাররা পিচে সাহায্য পাচ্ছিল স্বীকার করে নিয়েও তিনি পেসার হামিদ হাসানের চোট পেয়ে বল করতে না পারাকে ম্যাচ হারের কারণ হিসাবে বর্ণনা করেন এবং পাক ব্যাটসম্যানদের ভূয়সী প্রসংশা করেন৷
ইমদ ছাড়া পাকিস্তানের হয়ে ৪৫ রান করেন বাবর আজম৷ ইমাম উল হক ৩৬, হাফিজ ১৯, হ্যারিস ২৭, সরফরাজ ১৮, শাদব ১১ ও রিয়াজ অপরাজিত ১৫ রান করেন৷ খাতা খুলতে পারেননি ফকর৷ আফগানদের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন মুজিব ও নবি৷ একটি উইকেট রশিদ খানের৷ সরফরাজ ও শাদব রানআউট হয়ে ক্রিজ ছাড়েন৷
তার আগে তারকাখচিত পাক বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে ইনিংসের শুরুতেই আগ্রাসী ব্যাটিং করার চেষ্টা করেন দুই আফগান ওপেনার রহমত শাহ ও গুলবদিন নায়েব৷ ৪.৪ ওভারে আফগানিস্তান ২৭ রান তোলার পরেই শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে সরফরাজের দস্তানায় ধরা পড়ে যান নায়েব৷ তিনি ৩টি বাউন্ডারির সাহায্যে ১২ বলে ১৫ রান করে আউট হন৷
ঠিক পরের বলেই তিন নম্বরে ব্যাট করতে আসা হাসমতউল্লাহ শাহিদিকে ফিরিয়ে দেন আফ্রিদি৷ ইকরম আলি খিলকে সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয় রোধের চেষ্ট করেন রহমত৷ তবে সফল হননি৷ ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৩ বলে ৩৫ রানের সাবলীল ইনিংস খেলে রহমত আউট হন ইমদ ওয়াসিমের বলে৷ আফগানিস্তান ৫৭ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের তিন জন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে৷
প্রাক্তন অধিনায়ক আসগর আফগান ইকরমকে সঙ্গে নিয়ে দলকে একশো রানের গণ্ডি পার করান৷ শেষমেশ ৩টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৩৫ বলে ৪২ রান করে শাদবের বলে আউট হন আসগর৷ইকরম ৬৬ বলে কেরিয়ারের সেরা ২৪ রানের ঠুকঠুকে ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন৷
লোয়ার অর্ডারে ৪২ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন নাজিবুল্লাহ জাদরান৷ ৫৪ বলের ইনিংসে তিনি ৬টি বাউন্ডারি মারেন৷ এছাড়া মহম্মদ নবি ৩৩ বলে ১৬, সামিউল্লাহ শিনওয়ারি ৩২ বলে অপরাজিত ১৯, রশিদ খান ১২ বলে ৮, হামিদ হাসান ৩ বলে ১ ও মুজিব উর রহমান ৯ বলে অপরাজিত ৭ রানের যোগদান রাখেন৷
পাকিস্তানের হয়ে ৪৭ রানে ৪টি উইকেট নেন শাহীন শাহ আফ্রিদি৷ ২৯ রানে ২টি উইকেট নিয়েছেন ওয়াহাব রিয়াজ৷ ৪৮ রানে ২টি উইকেট নিয়েছেন ইমদ ওয়াসিম৷ ৪৪ রানে ১টি উইকেট শাদব খানের৷



