আন্তর্জাতিকপরিবেশ

জলবায়ু বিপর্যয়ে হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যের বন্যপ্রাণী

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব প্রাণিজগেক ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২৩ সালেও এ প্রভাব খুব একটা প্রশমিত হবে না। কেননা বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনও ক্রমাগত বিকট আকার ধারণ করবে। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে জলবায়ুগত পরিবর্তনের বেশি প্রভাব পড়েছে। কখনো তীব্র ঝড়, কখনো প্রচণ্ড তাপ, আবার কখনো তীব্র ঠাণ্ডা এ অঞ্চলের স্বাভাবিক প্রাণী জীবনের শৃঙ্খলাকে এলোমেলো করে দিয়েছে। ২০২৩ সালেও এ প্রভাব বিদ্যমান থাকবে। যুক্তরাজ্যের একটি শীর্ষস্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, দেশটির সবচেয়ে মূল্যবান উদ্ভিদ ও বৈচিত্র্যময় প্রাণিজগৎ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ অবস্থার কারণে বন্যপ্রাণী যেমন ব্যাঙ, পাখি, প্রজাপতি, বড় বড় গাছ থেকে শুরু করে বাগানের ফুলেরও বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ট্রাস্টের মতে, জলবায়ুর জন্য এ সময়টা অত্যন্ত জরুরি। ২০০২ সালের চরম ঘটনাগুলোর মতো মনে হচ্ছে, যা অনেক প্রজাতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

চ্যারিটি ক্লাইমেট সংস্থার জলবায়ু সংকটবিষয়ক উপদেষ্টা কিথ জোন্সের মতে, ২০২২ সালের আবহাওয়া প্রকৃতির জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। খরা, উচ্চতাপমাত্রা, ক্রমাগত ঝড়, মৌসুমি তাপ, ঠাণ্ডা, বন্যা বড় বিপদ নিয়ে এসেছে। প্রকৃতি ও মানুষকে আবহাওয়ার চরম পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বছরটি আমাদের বিভিন্ন প্রাণী প্রজাতির জন্য চ্যালেঞ্জিং। যদি আমরা তাপমাত্রা বৃদ্ধি কমাতে এবং প্রকৃতির বেঁচে থাকার জন্য যথাযথ উদ্যোগ না নিই তবে এর ফল হবে ভয়ানক।

জলবায়ুবিষয়ক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে আরো ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্য আরো প্রবল বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, চরম ঝড় ও দাবানলের মুখে পড়তে পারে। কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করা না হলে পরিস্থিতি খারাপ থেকে আরো খারাপ হবে।

অত্যধিক গরম আবহাওয়া গ্রীষ্মের অন্যতম প্রকাশ্য পরিণতি বন্য দাবানল, যা এরই মধ্যে কর্নওয়াল, ডেভন ও ডোর্সেটের উষ্ণ ভূমি অঞ্চলগুলোর জীব প্রজাতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে সিলভার স্ট্যাটেড ব্লু বাটারফ্লাই, বিরল প্রজাতির টিকটিকি ও সাপের আবাসস্থল ধ্বংস করেছে।

উষ্ণতা বাড়ার ফলে অন্যান্য অপ্রত্যাশিত পরিণতিও ভোগ করতে হয়েছে যুক্তরাজ্যকে। গ্রীষ্মের মাঝামাঝি নর্থ আম্বারল্যান্ডের ওয়েলিংটনের বন সংরক্ষণকর্মীরা কিছু বাদুড়ের দেখা পেয়েছেন, যা পানির অভাবে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়েছিল। তারা বাদুড়গুলোকে জলপান করিয়ে সেগুলোকে শীতল, অন্ধকার জায়গায় রেখে দিয়েছেন, যাতে এ নিশাচর প্রাণীগুলো বিশ্রাম নিতে পারে এবং সন্ধ্যাবেলায় তাদের বাসস্থানে ফিরে যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ট্রাস্টের প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের প্রধান বেন ম্যাককার্থি জানিয়েছেন, একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। কিছু এলাকার আবাসস্থল যেমন জলাভূমি, চারণভূমি সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। এসব স্থানে বাস করে এমন সব প্রজাতির ওপর এর প্রভাব পড়েছে। দেশটির অনেক প্রজাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেমন প্রজাপতি ও মৌমাছির মতো উড়ন্ত পোকামাকড়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কেননা ফুলের গাছগুলো শুকিয়ে গেছে এবং মারা গেছে। তিনি বলেন, কিছু প্রজাতি অন্যদের তুলনায় ভালোভাবে মানিয়ে নেবে।

আমাদের বাগানগুলোয় রবিন, কাঠঠোকরা বা নীল প্রজাপতির মতো সাধারণ প্রজাতিগুলো বিরূপ আবহাওয়ার চাপকে আরো ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। তবে আবহাওয়া যখন খারাপ থেকে আরো খারাপ হবে তখন কী হবে তা এখনো অনুমান করা মুশকিল।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension