জাতিসংঘযুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘের ভাষণে ঐক্যের ডাক বাইডেনের

আর কোনো স্নায়ুযুদ্ধ চায় না যুক্তরাষ্ট্র। মিত্র দেশগুলোকে সহযোগিতার অঙ্গীকার করলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে, বিভক্তি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।

৭৬তম সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণের শুরুতেই হতাশা জানান জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বিশ্ব ধ্বংসের দিকে এগুচ্ছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক করেন তিনি।

অ্যান্তোনিও গুতেরেস, “আমরা অতল গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছি। পৃথিবী কখনোই এতটা হুমকির মুখোমুখি হয়নি। আফগানিস্তান থেকে ইথিওপিয়া, ইয়েমেন সবখানে শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে”।

গুতেরেস আরো বলেন, বিশ্বে ক্রমেই বাড়ছে বিভক্তি। তা এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে আলোচনায় বসার তাগিদ দেন তিনি।

অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তার উন্নয়নে বিশ্ব দুটি স্বতন্ত্র ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এমনকি সামরিক ও ভূরাজনৈতিক কৌশলে দুটি আলাদা পন্থা দেখা যাচ্ছে। এটি বাড়িয়ে দেবে স্নায়ুযুদ্ধ বলেও জানান তিনি।

জবাবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, মতবিরোধ থাকলেও যেকোনো দেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।

জো বাইডেন বলেন,” আমার দেশ নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ বা কোন বিভক্তি চায় না। উন্নতি করতে চায় এমন যেকোনো দেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র”।

আফগানিস্তান ইস্যুতে বাইডেন বলেন, যুদ্ধ অবসানের মধ্য দিয়ে কূটনীতির নতুন যুগের সূচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তন সহায়তা দ্বিগুণ করার আশ্বাস দেন তিনি।

গণতন্ত্র এবং কূটনীতিতে বাইডেন তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, “আমাদেরকে অবশ্যই একযোগে কাজ করতে হবে, যেমনটি আগে কখনও করা হয়নি।” যুক্তরাষ্ট্র ‘নতুন করে স্মায়ুযুদ্ধে জড়াতে চায় না” বলেও ভাষণে উল্লেখ করেছেন বাইডেন।

বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শীতল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের উন্মেষ ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

এমন পরিস্থিতিতেই জাতিসংঘের ভাষণে বাইডেন বলেছেন, “অভিন্ন চ্যালেঞ্জের শান্তিপূর্ণ সমাধানে যে কোনও দেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র, এমনকী নানা বিষয়ে ঘোর মতবিরোধ থাকার পরও।”

বিবিসি জানায়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অর্থ সহায়তার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু খাতে তহবিল সহায়তা দ্বিগুণ বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ছিল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’। এই নীতি থেকে বেরিয়ে বিশ্বকে ফের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন বাইডেন।

এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সে কথার পুনরাবৃত্তি করে মিত্রদেশগুলোকে আশ্বস্ত করেছেন বাইডেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আবার বিশ্বমঞ্চে ফিরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

বাইডেন বলেন, “আমরা আমাদের সময়ের কোভিড থেকে জলবায়ু, মানুষের মর্যাদা এবং মানবাধিকার সব বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নেতৃত্ব দেব। কিন্তু আমরা একা কাজ করব না।”

কোভিড, জলবায়ু মোকাবেলা, মানবাধিকার রক্ষা, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আয় বৈষম্য কমানোর মতো নানা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করবে, বলেন তিনি।

এদিকে, অধিবেশনে করোনা বিধিনিষেধের সমালোচনা করেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, অর্থনীতির গতিকে থামিয়ে দিয়েছে করোনা। সাধারণ অধিবেশনে এবারে সশরীরে যোগ দিচ্ছেন একশর বেশি বিশ্বনেতা আর বাকি ৬০ দেশের প্রধান পাঠাবেন ভিডিও বার্তা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension