জোহরান মামদানি ও ল্যান্ডারের পারস্পরিক সমর্থন: নিউইয়র্ক মেয়র নির্বাচনে নতুন সমীকরণ
নিউইয়র্ক সিটির আসন্ন মেয়র নির্বাচনে এক চমকপ্রদ ও কৌশলী পদক্ষেপে, প্রগতিশীল দুই প্রার্থী জোহরান মামদানি ও ব্র্যাড ল্যান্ডার একে অপরকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করেছেন। এ ঘটনাকে বিশ্লেষকরা “নতুন যুগের রাজনৈতিক কৌশল” হিসেবে অভিহিত করছেন।
জ্যাকসন হাইটসে বৃহস্পতিবার সকালে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মামদানি ও ল্যান্ডার একসঙ্গে দাঁড়িয়ে এই ঘোষণা দেন। কুইন্স থেকে নির্বাচিত অ্যাসেম্বলি সদস্য এবং ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট মামদানি বলেন—
“আমরা আলাদা বোরো থেকে এলেও আমাদের সংগ্রাম এক—এই শহরকে ধনী করপোরেশন নয়, সাধারণ মানুষের হাতে ফিরিয়ে দেয়া।”
ল্যান্ডার, যিনি নিউইয়র্কের বর্তমান কম্পট্রোলার ও পরিচিত প্রগতিশীল মুখ, মামদানির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন—
“জোহরান শুধু একজন রাজনীতিক নন, তিনি একজন চিন্তাশীল, সৎ কণ্ঠ। তার নেতৃত্বে শহর বদলাতে পারে। আমরা ভোট বিভক্ত করছি না, বরং একটি আন্দোলন গড়ে তুলছি।”
প্রগতিশীল জোটের বার্তা
এই সমর্থন বিনিময় অনেকটা অ্যান্ড্রু কুওমোর প্রভাব মোকাবেলার পরিকল্পিত জবাব বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুওমো তার পরিচিতি ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ভোটারদের একাংশকে আকর্ষণ করলেও মামদানি-ল্যান্ডার জুটি নতুন প্রজন্ম, অভিবাসী এবং সাম্যবাদী মানসিকতার নাগরিকদের মধ্যে আশার আলো ছড়িয়েছেন।
পাশাপাশি, অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই দুই প্রার্থীর কেউ একজন শেষ পর্যন্ত মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াইয়ে থাকবেন এবং অপরজন প্রশাসনিক বা উপদেষ্টা পদে যুক্ত হবেন।
জনগণের সাড়া
স্থানীয় সংগঠক মারিয়া টরেস বলেন—
“এটা ক্ষমতার খেলা না, এটা মূল্যবোধের লড়াই। আমরা চাই এমন নেতা, যারা কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে মানুষের পাশে থাকেন।”
আগামী ২৪ জুনের প্রাইমারিকে ঘিরে এই জোটবদ্ধতা ভোটারদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। প্রগতিশীল রাজনীতির এ উদাহরণটি হয়তো ভবিষ্যতের আরও বৃহৎ জোটের সূচনা।
“রূপসী বাংলা”-র পাঠকদের জন্য আমরা এই নির্বাচনের প্রতি সপ্তাহে বিশেষ বিশ্লেষণ ও রিপোর্ট প্রকাশ করে যাবো। সঙ্গে থাকুন।



