
তাইওয়ানের পর এবারে আর্মেনিয়া সফরে যাচ্ছেন ন্যান্সি পেলোসি
মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে তুমুল উত্তেজনা চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এরই মধ্যে ন্যান্সি পেলোসি চলতি সপ্তাহে আরেকটি ‘হটস্পট’ আর্মেনিয়া সফরে যাচ্ছেন। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকল পাশিনিয়ানের প্রতি সমর্থন জানাতেই পেলোসির এই সফর বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষে দুই শতাধিক নিহত হওয়ার পরপরই মার্কিন হাউস স্পিকারের এই সফরের খবর সামনে এলো।
পেলোসি বর্তমানে জার্মানিতে রয়েছেন। সেখানে তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘ইউক্রেনের বীরত্বপূর্ণ লড়াই’ এর সমর্থনে জি৭ স্পিকারস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। পলিটিকোর মতে, ওই সম্মেলনের পরই তিনি আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে যাবেন।
এদিকে, নাগোরনো-কারাবাখ সীমান্তে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সেনাদের মধ্যে সংঘাতে চলতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১৩৬ জন নিহত হয়েছে বলে শুক্রবার দাবি করেছে আর্মেনিয়া। এ নিয়ে দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতে সেখানে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
মঙ্গলবার শুরু হওয়া সংঘর্ষের উসকানি দেওয়ার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে অভিযুক্ত করেছে, যা মঙ্গলবার শুরু হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে এই সংঘাত শেষ হয়।
আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রে আছে বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত অনুযায়ী এটি আজারবাইজানের অংশ, তবে সেখানে থাকে মূলত জাতিগত আর্মেনিয়ানরা।
তবে এই সাংস্কৃতিক বিভেদ কেবল রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই, এর পাশাপাশি ধর্মীয় বিভেদও দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করছে। আর্মেনিয়া মূলত খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, অন্যদিকে আজারবাইজান মূলত মুসলিম।
দুটি দেশই সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ১৯৮০ এবং ১৯৯০ এর দশকে বড় আকারে যুদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২০ সালেও ছয় সপ্তাহ ধরে এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল ককেশাশ অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশ দুটি।



