নির্বাচনে হারের পর ট্রাম্পের সঙ্গ ছাড়ার মিছিল ‘শুরু’: পদত্যাগ করলেন উচ্চপদস্থ তিন কর্মকর্তা
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, বিভাগের নেতৃত্বের চাপের মুখে সাউথ ফ্লোরিডার ইউএস অ্যাটর্নি পদ থেকে কুইনোনেস পদত্যাগ করেছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন, যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে বিস্তৃত তদন্তের নেতৃত্বদানকারী সিনিয়র ফেডারেল প্রসিকিউটর জেসন রেডিং কুইনোনেসও রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, বিভাগের নেতৃত্বের চাপের মুখে সাউথ ফ্লোরিডার ইউএস অ্যাটর্নি পদ থেকে কুইনোনেস পদত্যাগ করেছেন, যদিও তিনি প্রেসিডেন্টের চাওয়া সবচেয়ে বিতর্কিত কিছু তদন্ত চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক ছিলেন।
জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের নেতৃত্বদানকারী জন আইজেনবার্গও শুক্রবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন এবং বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধানের পদ থেকে বৃহস্পতিবার সরে দাঁড়িয়েছেন হারমিত ধিলন।
বিভিন্ন কারণে বিচার বিভাগে এই রদবদল প্রত্যাশিত ছিল। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের প্রেক্ষাপটে, দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদ আর দুই বছর বাকি থাকায় কিছু কর্মকর্তার লাভজনক আইন ফার্মের চাকরিতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা এখন তদারকি নিয়ন্ত্রণ হাতে পেতে এবং তদন্ত শুরু করতে প্রস্তুত থাকায়, বিচার বিভাগের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা মনে করেন বিচার বিভাগের ভেতরের কট্টরপন্থীরা আরও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।
বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন ব্ল্যাঞ্চ। কুইনোনেস এবং ধিলনের মতো কিছু কর্মকর্তাকে উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর তা রাখতে না পেরে নানা জটিলতা তৈরির জন্য দায়ী হিসেবে দেখা হতো। তবে পদত্যাগ সত্ত্বেও ধিলন ও কুইনোনেসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত করার আগ্রহ ডেমোক্র্যাটদের হারানোর সম্ভাবনা নেই।
এই পদত্যাগগুলো প্রশাসনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত সিনেটের কারণে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগে সমস্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট তার মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য এই দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধানদের বসাতে পারেন।
‘মহা ষড়যন্ত্র তদন্তের’ পেছনের ব্যক্তি
অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক পোস্টে কুইনোনেসের বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘বিভাগ জেসনের নেতৃত্বের জন্য কৃতজ্ঞ।’
মায়ামিতে কুইনোনেসকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিচার বিভাগের চলমান সেই প্রচেষ্টার ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানতে পারে। যার লক্ষ্য ছিল তথাকথিত এক “মহা ষড়যন্ত্রের” অংশ হিসেবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক শত্রু বলে বিবেচিত একটি বড় পরিসরের লোকজনকে বিচারের আওতায় আনা।
তার এক বছরের মেয়াদকালে, কুইনোনেসের কার্যালয় ট্রাম্পের বিচার বিভাগের আনা অন্যতম প্রভাবশালী একটি অপরাধমূলক অভিযোগপত্র নিশ্চিত করেছিল, সেটি ছিল সাবেক কিউবান প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্র।
তবে তার নানা কর্মকাণ্ড তাকে বিভাগীয় নেতৃত্বের চোখের বালি করে তুলেছিল। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ট্রাম্প ও তার নির্বাচনী প্রচারণায় তদন্তের সাথে জড়িত সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে ফ্লোরিডার ফোর্ট পিয়ার্সে একটি গ্র্যান্ড জুরি ব্যবহারের প্রচেষ্টার পেছনে ছিলেন এই কুইনোনেস।
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ট্রাম্প ও তার প্রচারাভিযানের বিরুদ্ধে তদন্তে জড়িত সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তার কার্যালয় কয়েক মাসের মধ্যেই মামলা করতে পারবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা এজন্য তাকেই দোষারোপ করেছিলেন।
কুইনোনেস ঘন ঘন তার নিজের জেলার বাইরে, প্রায়শই ওয়াশিংটন ডিসিতে যাতায়াত করতেন, যা বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বড় কোনো মামলা উপহার দিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি কেবল বারবার মনে করিয়ে দিত।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুক্রবার মায়ামির ইউএস অ্যাটর্নি অফিসে ব্ল্যাঞ্চের এই ঘোষণাটি ছিল একটি ধাক্কার মতো।



