নিউ ইয়র্কযুক্তরাষ্ট্র

শেল্টারের তথ্য চায় ICE, আদালতের নির্দেশ

ব্রঙ্কসের সিটি পরিচালিত শেল্টারের বাসিন্দাদের তথ্য দিতে হবে; মামদানি প্রশাসনের আপিলের সম্ভাবনা পর্যালোচনা

শাহ্ জে. চৌধুরী :
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনকে ব্রঙ্কসের একটি সিটি পরিচালিত শেল্টারের নির্দিষ্ট কিছু বাসিন্দার ব্যক্তিগত তথ্য ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের (ICE) কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার দেওয়া এক আদেশে জেলা বিচারক লুইস কাপলান এ নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ব্রঙ্কসের ৮২৫ ইস্ট ১৪১ স্ট্রিটে অবস্থিত একটি শেল্টারে বসবাসকারী নির্দিষ্টসংখ্যক পুরুষের নাম, জন্মতারিখ এবং পরিচয় শনাক্তে সহায়ক তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ICE-এর দাবি, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তের অংশ হিসেবে এসব তথ্য প্রয়োজন।

তবে আদালতের নির্দেশে সব বাসিন্দার তথ্য সরাসরি ICE-এর হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়নি। এ ক্ষেত্রে একজন বিশেষ আদালত-নিযুক্ত কর্মকর্তা বা ‘স্পেশাল মাস্টার’ নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বাসিন্দাদের তথ্য যাচাই করে যাদের নির্দিষ্ট ধরনের গুরুতর অপরাধমূলক ইতিহাস রয়েছে, কেবল তাদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ICE-এর কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া তদারক করবেন।

আদালত উল্লেখ করেছেন, নগর প্রশাসন তথ্য সরবরাহের বিষয়টিকে অযৌক্তিকভাবে অতিরিক্ত চাপের বলে প্রমাণ করতে পারেনি। একই সঙ্গে ICE-এর তদন্তের বৈধতা এবং তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনায় সাবপিনা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামদানি প্রশাসন এর আগে নিউইয়র্কের ‘স্যাংচুয়ারি সিটি’ নীতির কথা উল্লেখ করে ICE-এর এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছিল। নগর কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, এ ধরনের তথ্য সরবরাহ স্থানীয় আইন ও অভিবাসীদের সুরক্ষার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে বিচারক মামদানির প্রশাসনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এসব আপত্তিকে আদেশ স্থগিত রাখার জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচনা করেননি।

এদিকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনও আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ICE একাধিকবার নিউইয়র্ক সিটির শেল্টারের বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে সাবপিনা জারি করে। নগর প্রশাসন সেসব আবেদনের বিরোধিতা করে আসছিল। সর্বশেষ ৬ নভেম্বরের আদালতের আদেশে সেই আইনি বিরোধ নতুন মোড় নিল।

আদালতের এ সিদ্ধান্ত নিউইয়র্কের অভিবাসীবান্ধব নীতি, স্যাংচুয়ারি সিটি আইন এবং ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা প্রয়োগের মধ্যকার চলমান দ্বন্দ্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন নজর থাকবে, মামদানি প্রশাসন এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে কি না এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত আসে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension