জাতিসংঘযুক্তরাষ্ট্র

তিন দফা নাশকতার অভিযোগ চলন্ত সিঁড়ি থেমে যাওয়া থেকে টেলিপ্রম্পটার বিকল, মাইক্রোফোন নীরব: ট্রাম্পের দাবি সবই ষড়যন্ত্র


হোসনেআরা চৌধুরী

নিউইয়র্ক, সেপ্টেম্বর ২৫. ২০২৫ — জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে একের পর এক প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘটনাগুলোকে নিছক দুর্ঘটনা বলে মানতে রাজি নন তিনি। বরং ক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিযোগ করলেন— এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এক সুপরিকল্পিত “তিন দফা নাশকতা”।

একের পর এক বিপত্তি

প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে—
• চলন্ত সিঁড়ি থেমে যাওয়া: ফার্স্ট লেডি মেলানিয়াকে নিয়ে ভেতরে প্রবেশের সময় হঠাৎ এস্কেলেটর থেমে যায়। ট্রাম্প বলেন, “আমরা মুহূর্তেই পড়ে যেতে পারতাম।”
• টেলিপ্রম্পটার অচল: মঞ্চে দাঁড়ানোর পর তার পাঠ্য প্রদর্শনকারী যন্ত্র সম্পূর্ণভাবে অন্ধকার হয়ে যায়।
• মাইক্রোফোন নীরব: ভাষণ চলাকালে শ্রোতারা কিছুই শুনতে পাননি। এমনকি ফার্স্ট লেডি পরে তাকে বলেন, “একটিও শব্দ শুনতে পাইনি।”

জাতিসংঘের ব্যাখ্যা বনাম ট্রাম্পের সন্দেহ

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিচ দাবি করেছেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে একজন মার্কিন প্রতিনিধি অনিচ্ছাকৃতভাবে এস্কেলেটরের নিরাপত্তা ফাংশন সক্রিয় করেছিলেন, ফলে সেটি থেমে যায়। কিন্তু ট্রাম্প তা মানতে রাজি নন। তার ভাষায়, “Not one, not two, but three sinister events!”

হোয়াইট হাউসের অবস্থান

প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিয়েট্ট Fox News–এ দাবি করেছেন, এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে বিব্রত করার জন্য ঘটানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বার্তাও ছুড়লেন ট্রাম্প

প্রযুক্তিগত গোলযোগের মাঝেও ট্রাম্প জাতিসংঘকে একহাত নেন। তিনি সংস্থার অস্তিত্বের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ না করলে তাদের দেশ “নরকে পরিণত হবে।”

বিতর্কিত প্রশ্ন

এখন আলোচনায় ঘুরছে কয়েকটি প্রশ্ন—
• এটি কি কেবল দুর্ঘটনা, নাকি আসলেই ষড়যন্ত্র?
• জাতিসংঘ কি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলো?
• নাকি ট্রাম্প ঘটনাটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন?

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension