
জাহাজে হামলা করলেই ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হবে: ট্রাম্প
ইরান-নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলা চালানো হলে দেশটির একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুমকি দেন।
ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন কিংবা অন্য কোনো অস্ত্র বা প্রযুক্তির মাধ্যমে হামলা চালালেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সেতু অথবা বিদ্যুৎকেন্দ্র বোমা হামলা চালিয়ে ধ্বংস করবে। এসব স্থাপনার মধ্যে রাজধানী তেহরানের ভেতরে বা এর আশপাশে থাকা অবকাঠামোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যখনই কোনো জাহাজে গুলি চালাবে, যুক্তরাষ্ট্র একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা করে তা ধ্বংস করবে।
ট্রাম্পের এমন হুমকির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার পর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনাও গভীর হয়েছে। ফলে, দুই দেশের মধ্যে আবারও সর্বাত্মক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে, প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো অবকাঠামোতে হামলার হুমকির সমালোচনা করেছেন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। তাঁদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য করা এবং বেসামরিক জনগণের ক্ষতি এড়ানো যুদ্ধরত পক্ষগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই ট্রাম্পের ঘোষিত নীতি বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধের নীতিমালা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই নতুন করে উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



