যুক্তরাষ্ট্র

দাবানলে ধ্বংস হয়ে গেল ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহাসিক শহর

২০ হাজারের বেশি দমকলকর্মী এবং সহায়তাকারী ৭ হাজার ৫৬০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে ৯৭টি বড়, সক্রিয় দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে

দাবানলে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ছোট পাহাড়ি শহরে তিন সপ্তাহের পুরনো দাবানল ঢুকে পড়েছে। দাবানল তীব্রতর হওয়ায় আগুনের শিখায় ঐতিহাসিক ভবনগুলোর বেশিরভাগ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তীব্র এই দাবানল নিয়ন্ত্রণে কার্যত হিমশিম খাচ্ছেন দেশটির কর্মকর্তা ও দমকল কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা।

বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ঘণ্টায় ৬৪ কিলোমিটার গতিবেগে এই দাবানল গ্রিনভিলের উত্তর সিয়েরা নেভাদা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক শতাব্দীরও বেশি পুরনো ক্যালিফোর্নিয়ার গোল্ড রাশ যুগের কিছু কাঠামো, একটি গ্যাস স্টেশন, হোটেল এবং বার ধ্বংস হয়েছে।

প্লামাস কাউন্টির সুপারভাইজার কেভিন গস বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, “আগুন আমাদের পুরো শহরকে পুড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের ঐতিহাসিক ভবন, ঘরবাড়ি, ছোট ব্যবসা এবং আমাদের শিশুদের স্কুল সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে গেছে।”

এতে ঠিক কতগুলো ভবন ধ্বংস হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে ঘটনাস্থলের ছবি এবং ভিডিওগুলো দেখে আন্দাজ করা যায় আগুনের তাণ্ডব ব্যাপক ছিল।

ওই এলাকার প্রতিনিধিত্বকারী মার্কিন প্রতিনিধি ডউগ লামালফা একটি আবেগপূর্ণ ফেসবুক ভিডিওতে বলেছেন, “আমরা আজ রাতে গ্রিনভিলকে হারিয়েছি, কিছু বলার নেই।”

বুধবার আগুন উত্তর ও পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়লে প্লামাস কাউন্টি শেরিফ শহরের প্রায় ৮০০ বাসিন্দার জন্য অনলাইনে একটি সতর্কতা জারি করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, “আপনি আসন্ন বিপদে আছেন এবং আপনাকে এখনই চলে যেতে হবে!”

২১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ক্রমবর্ধমান এই অগ্নিকাণ্ডটি রাজ্যের সবচেয়ে বড় বন্য দাবানল। এটি ১ হাজার ৩০৫ বর্গ কিলোমিটার এর বেশি এলাকা পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছে। দাবানলটি অন্যদিকে ঘুরে যাওয়ার আগে অন্তত কয়েক ডজন বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র মিচ ম্যাটলো বলেন, “আমরা আমাদের যা যা করণীয় ছিল তা করেছি। তবে কখনও কখনও এটি যথেষ্ট নয়।”

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদীর মতো দ্রুতগতিতে চলমান আগুনে দক্ষিণে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) এলাকা, কলফ্যাক্স শহরের ৩৫ থেকে ৪০টি বাড়ি এবং অন্যান্য কাঠামো পুড়ে গেছে। যেখানে প্রায় ২ হাজার মানুষ বসবাস করত। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার (৪ বর্গ মাইল) শুকনো গাছ ও জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যায়।

ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নিসুরক্ষা বিভাগের মতে, “আগুনের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। প্লাসার এবং নেভাদা কাউন্টিতে প্রায় ৬ হাজার লোককে সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। সপ্তাহের গোড়ার দিকে প্রায় ৫ হাজার দমকলকর্মী ডিক্সি ফায়ার নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন। হুমকির মুখে থাকা কিছু বাড়িঘর বাঁচিয়েছিলেন।”

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত তাপপ্রবাহ এবং খরা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমে দাবানলকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত ৩০ বছরে এই অঞ্চলটি অনেক বেশি উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে উঠেছে। এছাড়া আবহাওয়া আরও চরম এবং দাবানল আরও ঘন ঘন ও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠবে।

ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার জানিয়েছে, ২০ হাজারের বেশি দমকলকর্মী এবং সহায়তাকর্মী ৭ হাজার ৫৬০ বর্গ কিলোমিটারজুড়ে ৯৭টি বড় ও সক্রিয় দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension