
প্রধান খবরভারত
দিল্লিতে মসজিদে ভাঙচুর-আগুন, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার আশঙ্কা
ভারতের রাজধানী দিল্লির উত্তর-পূর্বে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভ এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ সহিংসতায় পুলিশসহ বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়েছেন।
নাগরিক আইনের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে আহত হয়েছে শতাধিক লোক, বহু বাড়িঘর ও দোকানপাটে আগুন দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী নিহত ২০ জন।

এলাকার মুসলমানরা বলেছেন সোমবার রাতে মুসলমানদের ওপর বেছে বেছে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা তাদের জয় শ্রী রাম ধ্বনি দিতে দিতে মারধর করেছে। তারা বলছে প্রশাসন তাদের পক্ষে না থাকায় তাদের মনে ভয় ঢুকে গেছে।
ভারতীয় একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার একদল উন্মত্ত জনতা জয় শ্রী রাম বলতে বলতে অশোক নগর এলাকার একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা গেছে, একদল লোক একটি মসজিদের মিনারে উঠছে এবং সেখানে একটি পতাকা স্থাপনের চেষ্টা করছে। তারা মসজিদের মিনারে উঠে মাইক ভেঙে ফেলে দেয় এবং সেখানে হনুমানের ছবি সম্বলিত একটি পতাকা উত্তোলন করে।
কিছুক্ষণ পরেই আরও এক ব্যক্তি একটি ভারতীয় পতাকা নিয়ে আসে এবং সেটাও উত্তোলন করা হয়। ওই এলাকার দোকানগুলোতেও হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
পরিস্থিতি সামলাতে দিল্লির মৌজপুর, জাফরাবাদ, চাঁদবাগ, কারাওয়াল নগর এবং গাজিয়াবাদে ইতিমধ্যে কার্ফু জারি করেছে প্রশাসন৷
দিল্লি-সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদেও ১৪৪ ধারা জারি হয়। নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয় গাজিয়াবাদ-দিল্লির সীমানায় যাতায়াতের ওপর। টানা বন্ধ দু’দিন উত্তর-পূর্ব দিল্লির পাঁচটি মেট্রোস্টেশন।
পরিস্থিতি এখন হিন্দু-মুসলিম ইস্যুতে চলে গেছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দাঙ্গারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ♦



