
প্রধান খবরভারত
দিল্লি জ্বলছেই, নিহত ১৯ জন
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দু দিনের সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ। ক্রমশ আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে পরিস্থিতি। এই অবস্থায় নজিরবিহীন নির্দেশ ভারত সরকার।
ইন্ডিয়া টুডের প্রকাশিত খবরে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে দেখা মাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির একাধিক এলাকা সবথেকে বেশি আক্রান্ত। আর সেই কারণে এই সমস্ত এলাকাতে শুট অ্যান্ড সাইটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ৬ হাজারেরও বেশি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন রয়েছে র্যাফ এবং কেন্দ্রীয়বাহিনী।
একদিকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির প্রতিবাদে আন্দোলন ও অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দমন করতে ময়দানে অন্যপক্ষের দাপাদাপি। দু পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়৷ এলাকার একাধিক দোকানে চলে ভাঙচুর, আগুন। পরিস্থিতি সামলাতে দিল্লির মৌজপুর, জাফরাবাদ, চাঁদবাগ, কারাওয়াল নগর এবং গাজিয়াবাদে ইতিমধ্যে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন।
দিল্লি-সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদেও ১৪৪ ধারা জারি হয়। নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয় গাজিয়াবাদ-দিল্লির সীমানায় যাতায়াতের ওপর। টানা বন্ধ দু’দিন উত্তর-পূর্ব দিল্লির পাঁচটি মেট্রোস্টেশন।
উত্তর-পূর্ব দিল্লির গুরু তেগবাহাদুর হাসপাতালে গুরুতর আহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ফলে মৃত্যুও বাড়ার আশঙ্কা। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের প্রায় অর্ধেক গুলিবিদ্ধ। সোমবার দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল রতন লালের মৃত্যু হয়। প্রথমে জানা গিয়েছিল, মাথায় পাথরের চোট লেগে মারা যান রতন। ময়নাতদন্তে জানা গেল, তার বাম কাঁধ দিয়ে গুলি ঢোকে। ডান কাঁধ থেকে সেই গুলি উদ্ধার হয়েছে।
ডিসি (শাহদরা) অমিত শর্মাও বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি। হিংস্র জনতা তার ওপর লাঠি নিয়ে চড়াও হয়েছিল। তার মাথার খুলিতে আঘাত লেগেছে। পুলিশ বাহিনীর অন্তত ৫০ জন আহত। ছাড় পান নি সাংবাদিকরাও। ♦



