
দুই যুগ পর উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার (১৮ জুন) উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন। উভয় দেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সফরে ওয়াশিংটনের দুই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী নিজেদের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর এপি, বিবিসি ও সিএনএন।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুতিনের এই সফর হবে দুইদিনের। তিনি সর্বশেষ ২০০০ সালে উত্তর কোরিয়া সফরে গিয়েছিলেন। তখন তিনি বর্তমান উত্তর কোরীয় নেতা কিম জন উনের পূর্বসূরি ও পিতা কিম জং ইলের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
চলমান ইউক্রেন রাশিয়া সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক যে আরও গভীর হয়েছে পুতিনের এ সফর হবে তারই একটি উদাহরণ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরু করার পর পুতিন খুব কম দেশেই সফরে গিয়েছেন। সেদিক দিয়ে এটি হবে পুতিনের বিরল সফরের একটি।
অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার জন্যও এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইভেন্ট। কারণ সামান্য কিছু মিত্র থাকলেও ২০১৯ সালের করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে প্রভাবশালী কোনো বিশ্বনেতা সফরে যাননি।
বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে এবং গন্তব্য উত্তর কোরিয়ায় হওয়ায় পুতিনের এই সফরের দিকে বিশেষ নজর রাখছে পশ্চিমা বিশ্ব। ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করবেন পুতিন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন তার বিশেষ ট্রেনে করে রাশিয়া সফরে যান। সে সময় তিনি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি একটি যুদ্ধবিমান তৈরির কারখানা পরিদর্শন করেন। তার সফরের আগেই ইউক্রেনসহ পশ্চিমা বিশ্ব দাবি করেছিল, রাশিয়া কিয়েভের বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র ব্যবহার করছে। তবে বিষয়টি রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়া- কেউই-ই স্বীকার করেনি। পুতিনের এবারের সফরেও দুই দেশের মধ্যে অস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ বিষয়ে আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যে কোনো ধরনের অস্ত্র বাণিজ্য নিষিদ্ধ।



