আন্তর্জাতিক

নেপালে নিহত বেড়ে ৯০৩, দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ নিখোঁজ ৪২০০ জনের বেশি

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহতরে সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এই নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন স্কুলের ২ শতাধিক শিক্ষার্থীও রয়েছেন। এদিকে, বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ভারতীয়রা। অপরদিকে, অনেকের নাম পরিচয় শনাক্ত করে না পারায় এবং মরদেহে পচন শুরু হওয়ায় সেগুলোকে বিভিন্ন গণকবরে দাফন করা শুরু হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছ, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি জেলার অন্তত ১৯টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে অন্তত ৯টি স্কুল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও ৭টি স্কুল আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নেপালের শিক্ষা ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ এবং প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ স্কুল রয়েছে রাসুয়া ও নৌয়াকোট জেলায়। এই দুই জেলার কয়েকটি স্কুলে মোট ২ হাজার ৪২৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। এসব স্কুলের কিছু বন্যার পানিতে ডুবে গেছে, আবার কিছু মাটির নিচে চাপা পড়েছে।

এক স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানিতে তাদের এক শিক্ষার্থীকে বহনকারী একটি বাস ভেসে গেছে। বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া ভিজ্যুয়াল জার্নালিজম দল স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করে একটি মানচিত্র তৈরি করেছে।

এদিকে, গত বুধবার বন্যা প্রথম আঘাত হানার স্থান থেকে ভাটির দিকে অবস্থিত চিতওয়ান জেলায় তীরে ভেসে আসা পরিচয়হীন মরদেহের দাফন আবার শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে এসব নমুনা মৃতদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। গতকাল রোববার ২৭২টি মরদেহের মধ্যে প্রায় ২০০টি দাফন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ বাকি মরদেহগুলোর দাফনও শেষ করার আশা করছেন তারা।

চিতওয়ান কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছিল, অনেক মরদেহ এমন অবস্থায় তীরে ভেসে এসেছে যে সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপালি পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি দাফনের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। কবরের স্থানে সিরিয়াল নম্বর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মরদেহের ডিএনএ নমুনা, ময়নাতদন্ত ও অটপসি রিপোর্ট এবং পরিচয় শনাক্ত করার জন্য পাওয়া যেকোনো তথ্যও সংরক্ষণ করা হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে এখনো অন্তত ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও ১২৮ জনও নিখোঁজ রয়েছেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন থেকে ৪০৩ জন ভারতীয় নাগরিক নেপালে প্রবেশ করেছিলেন। অন্যদিকে, আরও ৫০০ ভারতীয় নাগরিক চীনে নিরাপদে রয়েছেন।

এখন পর্যন্ত মোট ১৪৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নেপালে উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা আরও জোরদার করেছে ভারত। ১৯ সদস্যের একটি বিশেষায়িত ফরেনসিক দল কাঠমান্ডুতে কাজ শুরু করেছে। দলটি ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে সহায়তা করছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension