
ধর্মের নামে বিশৃঙ্খলা মেনে নেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার প্রত্যয় নিয়ে দেশের সকল নাগরিককে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিজয় দিবস উদযাপনসহ দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকী উদযাপনে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৭২ সালে জাতির পিতা ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার না করার নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। কিন্তু পরাজিত শক্তির দোসররা দেশকে আবার ৫০ বছর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। একাত্তরের পরাজিত শক্তির একটি অংশ মিথ্যা ও মনগড়া বক্তব্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে মাঠে নেমেছে। সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। কিন্তু আমরা দেশে ধর্মের নামে কোনো বিভেদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে দেবো না। ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে এদেশের মানুষ প্রগতি, অগ্রগতি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। ধর্মের নামে কোনো ধরনের বিভেদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না।”
শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান- সব ধর্মের-বর্ণের মানুষের রক্তের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার করবেন না। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রাখেন।”
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন খাঁটি মুসলমান ছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতা শুধু একজন খাঁটি মুসলমানই ছিলেন না, তিনি ধর্মীয় আচারাদিও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতেন। মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র- এই চারটি মৌলিক বিষয়কে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেন তিনি।” এসময় দেশ এবং দেশের বাইরে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশীকে বিজয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মাসেতুর নির্মানকাজের অগ্রগতিরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। করোনা মোকাবেলায় সরকারের সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে করোনা মোকাবেলা করে বিশ্বের বুকে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ, নির্যাতিত মা-বোনের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম জানান। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট ঘাতকদের হাতে নিহত পরিবারের সদস্যদের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।❐



