যুক্তরাষ্ট্র

ধর্ষণের শিকার শিশুর গর্ভপাত করিয়ে আদালতের মুখোমুখি মার্কিন এক নারী চিকিৎসক

ধর্ষণের শিকার শিশুকে গর্ভপাত করানোর দায়ে এবার আদালতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে মার্কিন এক নারী চিকিৎসককে। এ ঘটনাটি ঘটেছে গত বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে। এ চিকিৎসক ডা. ক্যাটলিন বার্নার্ডের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক শুনানি শুরু হয়েছেন আদালতে।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ানাপলিস স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যাটলিন বার্নার্ড ধর্ষণের শিকার শিশুটির গর্ভপাত করানোর এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। সেই সঙ্গে জীবন বাঁচাতে গর্ভপাতের প্রয়োজনীয়তাকেও ফের সামনে তুলে আনেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমে ক্যাটলিনের এমন জোরালো অবস্থান গর্ভপাত ইস্যুতে সাংবিধানিক অধিকারকে বাতিল করতে সুপ্রিমকোর্টের সিদ্ধান্তকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় বলে অভিযোগ আনেন গর্ভপাতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া রিপাবলিকান পার্টির নেতাকর্মীরা।

ঘটনাটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়। গর্ভপাত পক্ষের অধিকারকর্মীরা ১০ বছর বয়সি শিশুর জীবন বাঁচাতে গর্ভপাতের পক্ষে ফের ঐক্যবদ্ধ হন। অন্যপক্ষ এ ঘটনায় বার্নার্ডকে তার কর্মের জন্য ধিক্কার জানান রিপাবলিকানরা।

বৃহস্পতিবারের শুনানিতে, ইন্ডিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল টড রোকিতার অভিযোগ শুনেন। তিনি একজন রিপাবলিকান এবং গর্ভপাতের অধিকারের বিরোধী। এ ঘটনায় তিনি বার্নার্ডকে রাষ্ট্র এবং ফেডারেল আইন উভয় লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

অভিযোগে বার্নার্ডের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হয়। চিকিৎসক হিসেবে তার নিবন্ধন স্থগিত ও বাতিলেরও দাবি জানান বিরোধীরা।

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় অভিযোগ করেছে যে, কর্তৃপক্ষকে ধর্ষণের রিপোর্ট না জানিয়ে বার্নার্ড ইন্ডিয়ানা আইন লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে ভিকটিমের গোপনীয়তাও ভঙ্গ করেছেন।

তবে গত বছর জুলাইয়ে বার্নাডের নিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি হেলথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এই চিকিৎসক ভিকটিমের গোপনীয়তা ভঙ্গ করেননি।

গর্ভপাতের সময় ওই শিশুটি গর্ভের সময়কাল ছিল ছয় সপ্তাহ তিন দিন। শিশুটি গত বছরের শুরুতে ধর্ষণের শিকার হয়। গর্ভপাতের সময় ধর্ষণসংক্রান্ত মামলাটিও চলমান ছিল। জুলাইতে গ্রেফতার করা হয় একমাত্র আসামি ২৭-বছরের এক যুবক।

এ প্রসঙ্গে বার্নার্ড ও গর্ভপাতের অধিকারের পক্ষে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, কীভাবে মেনে নেওয়া যায় একজন ধর্ষকের সন্তান জন্ম দেবে এক নিষ্পাপ শিশু। একজন ডেমোক্রেট হিসেবে আমি তা মেনে নিতে পারি না।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension