সম্পাদকীয়

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অবাধ ও সুষ্ঠু হোক

আজ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচনটি স্থানীয় হলেও দেশের জনগণের দৃষ্টি এখন ওই সিটির দিকে। নির্বাচনে উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও রয়েছে। প্রতিদ্ব›দ্বী দুই রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গন আলোচিত হচ্ছে। ভোটগ্রহণ এবং পরবর্তী পর্যায়গুলো সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হোক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ভোট নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের নানা সমীকরণ। জয়ের জন্য প্রতিনিয়ত নিজেদের মতো করে কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। ভোটারদের মন জয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনে মেয়র পদে জয়-পরাজয়ে নিয়ামক বা ফ্যাক্টর কারা হবেন, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আইভী ও তৈমূরের মধ্যে ভোটযুদ্ধ হলেও এবারো ঘুরে-ফিরে বারবার আসছে শামীম ওসমানের নাম। সম্ভ্রান্ত দুই পরিবারের জন্য নারায়ণগঞ্জ বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। দুটি পরিবারই আওয়ামী লীগের রাজনীতির পরীক্ষিত পক্ষ।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুজনেরই বাহাস আমরা দেখছি। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি রেখেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কোনো ঘটনার খবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রচারণাও যে সহিংসতামুক্ত থাকতে পারে, তার সত্যতা আমরা এখন পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করেছি। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা রয়েছে।

এই নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে। এবারের নির্বাচনে সিটি করপোরেশনের ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে এবং ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট ১৮৭টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৭ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৪ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৯ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন।

এ নির্বাচনে ইভিএমে ভোট দেবেন ভোটাররা। ভোটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে নেমেছে। আইনশৃঙ্খলার দিকে সতর্ক চোখ রাখছে নির্বাচন কমিশন। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন কেমন হয় তার ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ রাজনীতিরও অনেক কিছু। নির্বাচন সুষ্ঠু, নির্বিঘ্ন, গ্রহণযোগ্য হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা এ মুহূর্তে সবার কাম্য। এ

খন নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের দায়িত্ব হলো ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন তার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। কমিশন ইতোমধ্যে সে ব্যাপারে ভোটারদের আশ্বস্ত করেছে। তাদের জন্য এটা একটা পরীক্ষা এবং সুযোগ নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের। সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের যেমন, তেমনি অংশগ্রহণকারী প্রার্থী, ভোটার এবং সমর্থনদানকারী রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছি আমরা। নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয় থাকবে, ভোটারদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তা খোলামনে মেনে নেয়াই গণতন্ত্রের শিক্ষা হওয়া উচিত।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension