
নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের কৌতূহল: প্রাসঙ্গিক না কি প্রহসন?

শাহ্ জে. চৌধুরী
সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট যেভাবে মন্তব্য করেছেন এবং আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তা শুধু বিস্ময়কর নয়—একটি রাজনৈতিক প্রহসনের মতোই মনে হয়েছে। একটি স্বাধীন শহরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে এক বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের প্রকাশ্য কৌতূহল কেবল অপ্রয়োজনীয় নয়, বরং তা কূটনৈতিক সৌজন্য এবং রাজনৈতিক শালীনতার সীমালঙ্ঘন।
নিউ ইয়র্ক সিটি এক বহুসংস্কৃতির প্রাণশক্তির নাম—যেখানে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, সংস্কৃতি ও মতাদর্শ একে অপরের সঙ্গে সহাবস্থানে আস্থা রাখে। এখানকার মেয়র নির্বাচন হলো সেই বহুত্ববাদের প্রতিচ্ছবি, যেখানে স্থানীয় অভিজ্ঞতা, সমস্যাবোধ এবং গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তই মুখ্য। এখানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের মতামত আমাদের নীতিগত অবস্থান নির্ধারণে কোনোভাবেই প্রাসঙ্গিক নয়।
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের এই আগ্রহ—চেষ্টা হোক রাজনৈতিক বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠার, কিংবা প্রভাব বিস্তারের—এটি এই শহরের নাগরিকদের কাছে একধরনের অহেতুক হস্তক্ষেপ বলেই প্রতিভাত হয়। এমনকি কেউ কেউ এটিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ছায়ায় স্থানীয় গণতন্ত্রকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টাও ভাবতে পারেন। গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান থাকলে এমন মন্তব্য একান্তই পরিহারযোগ্য।
এই ধরনের মন্তব্য সেই সমস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, যারা ইতোমধ্যেই নিজেদের পরিচয়, অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে রাজনীতির মারপ্যাঁচে অনিশ্চয়তায় ভুগছে। নিউ ইয়র্কের নেতৃত্ব কেমন হবে, তা নির্ধারণ করবে এখানকার ভোটাররাই—বাইরের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা পরামর্শদাতার দ্বারা নয়।
একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার কাছে এটি শুধু হাস্যকর নয়—গভীরভাবে অপ্রাসঙ্গিক এবং অযাচিত মনে হয়েছে। এমন একটি সময়ে যখন ইসরায়েলের ভেতরে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শান্তি নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠছে, তখন তার প্রেসিডেন্টের অন্য দেশের নির্বাচনী রাজনীতি নিয়ে এমন ‘কৌতূহল’ সত্যিই এক প্রহসনের মতো ঠেকে।
নিউ ইয়র্ক একটি সাহসী শহর। এখানকার মানুষ জানে কোন নেতা তাদের কথা শোনে, কে আসলেই তাদের পাশে থাকে। তারা তাদের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও আশা নিয়ে—not external voices, however powerful they may seem.
তাই বলি:
আমাদের রাজনীতি নিয়ে কৌতূহল নয়, সম্মান চাই।
আমাদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়, আস্থা চাই।
আমাদের গণতন্ত্রে বাহবা নয়, স্বাধীনতা চাই।



