
নিউ জার্সিতে অ্যাডেনো ভাইরাসে ৬ শিশুর মৃত্যু
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে দীর্ঘ দিন ধরে সেবা প্রদানকারী একটি মেডিক্যাল কেয়ার সেন্টারে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ছয় শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। আরও এক ডজন শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। খবর বিবিসির।
নিউ জার্সি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ওয়ানাক নার্সিং ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ১৮ জন শিশু অ্যাডেনো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, অ্যাডেনো ভাইরাসের কারণে সাধারণত ‘হালকা অসুস্থতা’ দেখা দেয়। কিন্তু আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে তা ‘মেডিক্যাল ফ্রাজাইল’ হতে পারে। প্রাদেশিক সরকার এই বিষয়ে তদন্ত করছে। হাসপাতালটিতে নতুন রোগী ভর্তি আপাতত বন্ধ আছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, আক্রান্ত শিশুদের ‘রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল’। ফলে এই ভাইরাসটি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
তারা আরও জানায়, এমনিতে এরা অসুস্থ শিশু। আবার অ্যাডেনো ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।
হ্যাসকেলে এটি একটি বেসরকারি হাসপাতাল। তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নিউ জার্সি স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, প্রদেশের কর্মকর্তারা রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত এই ঘটনার তদন্ত করেছে। রবিবার পরিদর্শক দল হাসপাতালটিতে ‘হাতধোয়ার ক্ষেত্রে ত্রুটি’ খুঁজে পেয়েছে। হাসপাতালটি অনেক বছর ধরে প্রাপ্তবয়স্কদেরও সেবা দিয়ে আসছে। কখন এবং কিভাবে এই ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলো তা স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় নিউজ পোর্টা নিউ জার্সি ডটকম জানায়, ১৮ অক্টোবর আক্রান্ত শিশুদের মা-বাবার কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। তবে কর্মকর্তারা মঙ্গলবারের আগ পর্যন্ত এই ভাইরাসের বিষয়ে নিশ্চিত করেনি।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নিউ জার্সি স্বাস্থ্য বিভাগ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
নর্থ জার্সি বলছে, হাসপাতালটির শিশু বিভাগে ভর্তি শিশুরা গুরুতর অসুস্থ। তাদের অনেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী, কেউ কোমায়, কেউ কথা বলতে পারে না বা হাঁটতে পারে না। ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র(সিডিসি) জানায়, অ্যাডেনো ভাইরাস একটি ছোঁয়াচে রোগ। স্পর্শ, করমর্দন, কাশি ও সর্দির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। এই রোগের কারণ ঠান্ডা, গলা ব্যথা, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, গোলাপি বর্ণের চোখ(কনজাংকটিভাইটিস), জ্বর, মূত্রাশয় প্রদাহ বা সংক্রমণ, পেট বা অন্ত্রে সংক্রমণ ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই রোগের কারণে সাধারণ অসুস্থতা থেকে ভয়ানক অবস্থা দেখা দিতে পারে। তবে গুরুতর অসুস্থতা খুব কমই দেখা দেয়।



