
‘পরপারে ভালো থেকো বউ’ : হত্যার পর ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাস
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ‘সুদীর্ঘ সাড়ে চার বছরের ভালোবাসা ছিল আমাদের। আমরা দুজন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলাম, ভেবেছিলাম সারাজীবন একসঙ্গে থাকব। কিন্তু বড়ই আফসোস ও পরিতাপের বিষয় হলো আমাদের সম্পর্কের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তির আবির্ভাব হয়। অতঃপর কোনো প্রকার অপরাধ ছাড়াই আমাকে ছেড়ে চলে যায় সে। আমার বউ তার মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে সারারাত চ্যাটিং করত, যত প্রকার অশ্লীল আলাপ আলোচনা সবই চালিয়ে গেছে তারা। তবে বাংলায় একটা প্রবাদ আছে জানেন তো? চোরের দশদিন আর গেরস্তের একদিন! পরপারে ভালো থেকো বউ।’
উপরের কথাগুলো স্ত্রী সায়মা পারভীন তানহাকে (২০) ছুরিকাঘাতে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণকারী ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আলী ইমাম খান অনুর। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঝালকাঠি ইকোপার্কে স্ত্রী সায়মাকে হত্যা করে। এ ঘটনার পরে ফেসবুকে একাধিক পোস্ট দেয় অনু। উপরের কথাগুলো ওই ফেসবুক পোস্টের একাংশ।
নিহত সায়মা শহরের টিনপট্টি সড়কের শাহাদাত তালুকদারের মেয়ে। তিনি ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। আর অনু শহরের ইছানীল (৭ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকার দিদার হোসেন খানের ছেলে এবং জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। পুলিশের সামনে গণমাধ্যমে স্বীকারোক্তিতে অনু জানায়, সাড়ে ৪ বছর প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২১ সালের ০২ সেপ্টেম্বর পোনাবালিয়া ইউনিয়ন কাজীর মাধ্যমে সায়মাকে বিয়ে করে। বিয়ের ৩ মাস পর থেকে স্ত্রী সায়মা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ বিষয়ে অনু একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তা শোনেননি সায়মা। এ কারণে ইকোপার্কে সায়মাকে ডেকে নেন। ঘটনাস্থলে অনু সকাল সাড়ে ৯টায় এবং সায়মা সকাল পৌনে ১০টায় উপস্থিত হন। এরপর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সংশোধন করতে না পেরে সায়মার বুকে ও পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে অনু। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সায়মা।
অনু বলে, ‘যদি তাকে সংশোধন করতে পারতাম তাহলে আর হত্যা করতাম না। এরপরে পুলিশ পাঠানোর জন্য একাধিক জনকে ফোন দিয়ে ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করলেও পুলিশ আসতে দেরি করায় ফেসবুকে হত্যার দায় স্বীকার করে কয়েকটি স্ট্যাটাস দেই। পরে নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করি।’
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, সুরতহাল রিপোর্ট তৈরিকালে সায়মার ব্যাগ থেকে আরেকটি নতুন ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।



