সম্পাদকীয়

পোশাক শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করুন

এক অমিত সম্ভাবনা হচ্ছে বাংলাদেশের পোশাকখাত। আমাদের অর্থনীতির গতিপ্রবাহ অনেকটাই ঠিক থাকে পোশাকখাত থেকে আসা রেমিটেন্সে। পোশাককর্মীরা এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রেখে চলেছেন। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশে একালের জীবনযোদ্ধা তারা। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে পোশাকখাতের উন্নতি হলেও এ খাতের শ্রমিকদের জীবন-মানের তেমন কোনো উন্নতি হয় নি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত।

বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তরায় সড়ক অবরোধ করে পোশাকশ্রমিকরা। ৬ জানুয়ারি রোববার সকাল ৯টার পর থেকে তারা উত্তরার জসীমউদদীন, আজমপুর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুইদিক বন্ধ থাকায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট।

শ্রমিকদের জীবনমানের সার্বিক উন্নতিকল্পে অবিলম্বে তাদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। শ্রমিকদের দাবি তারা যা বেতন পান, তাতে সংসার চলে না। ২০১৩ সালের সর্বশেষ মজুরি বোর্ডের বেতন অনুসারে শ্রমিকেরা পান ৫ হাজার ৩০০ টাকা। শ্রমিকেরা ন্যূনতম পাঁচ হাজারের বদলে তাদের বেতন ১৬ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছে। এছাড়া নিয়ম অনুসারে গ্র্যাচুইটি পান না শ্রমিকরা। প্রয়োজন পড়লে ছুটিও পান না। ছুটি দিলেও বেতন দেওয়া হয় না। কথায় কথায় ছাঁটাইসহ নানা অনিয়ম তো রয়েছেই। রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশনসের মত কারখানায় মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পরও এখানকার শ্রমিকদের সেই তুলনায় ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি।

পোশাক খাত শুধু আমাদের রপ্তানি আয় বাড়াতেই ভূমিকা রাখছে না, ‘মেড ইন বাংলাদেশ` ব্র্যান্ডিং- এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করছে বহির্বিশ্বে। তাই শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করে পোশাক খাতের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কর্তৃপক্ষের উচিত হবে শ্রমিকদের দাবি শোনা, তাদের সাথে কথা বলে একটি যুক্তিগ্রাহ্য সমাধানের পথ বের করা। পোশাকখাতের সার্বিক উন্নতিকল্পে এটা অত্যন্ত জরুরি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension