
প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে টেকনাফের উনচিপ্রাং ক্যাম্পের ভেতর প্রথম দফায় প্রত্যাবাসনের জন্য কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে টেকনাফের উনচিপাং এলাকার ২২ নম্বর ক্যাম্পে জড়ো করার পর তারা ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ সময় তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গণহত্যার বিচার ও স্বদেশের জায়গা জমি ফেরত পাওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল আজ। সেই অনুযায়ী প্রস্তুত দুই দেশ। প্রথম দফায় যেসব রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য তালিকা করা হয় তারা টেকনাফের উনচিপ্রাং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা। তাদেরকে মিয়ানমার পাঠানোর জন্য উখিয়ার বালুখালী সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ট্রানজিট পয়েন্ট প্রস্তুত রাখা হয়। পূর্ব ঘোষণা মতে মিডিয়াকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা সেখানে গিয়ে অবস্থান নেয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রত্যাবাসনের জন্য উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসার জন্য আরআরআরসি অফিসের কয়েকটি বাস সেখানে পৌঁছালে বিক্ষোভ শুরু করেন রোহিঙ্গারা।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের জানানো হয় যে তাদের জন্য অন্তত তিনদিনের খাবার দাবার ও জরুরি প্রয়োজনের দ্রব্যাদিসহ বাসে করে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়। এরপর তাদের বাসে ওঠার আহ্বান জানালে ‘যাবো না’ বলে স্লোগান দেয়া শুরু করে তারা। বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় কয়েকজনের হাতে প্ল্যাকার্ড দেখা যায় যেখানে তারা মিয়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদান, নিরাপত্তার নিশ্চয়তাসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে।
ফিরতে রাজী না রোহিঙ্গারা!
একটি শরণার্থী ক্যাম্পের ১৬টি পরিবার প্রথম দফায় প্রত্যাবাসনের জন্য তালিকাভুক্তদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত ছিল। কিন্তু সরেজমিনে অনুসন্ধানের খবরে জানা গেছে, ওইসব পরিবারের অধিকাংশের ঘরই তালাবন্ধ। জোরপূর্বক প্রত্যাবাসিত হওয়ার আশঙ্কায় রোহিঙ্গারা ঘর ত্যাগ করেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অপর একটি ক্যাম্পের কয়েকজন নারীর সঙ্গে আলোচনার খবরে জানা যায়, তাদের পরিবারের সদস্যরাও জোরপূর্বক প্রত্যাবাসিত হওয়ার ভয়ে ঘর ত্যাগ করেছেন।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম জানিয়েছেন, তারা সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, কিন্তু জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রতিবেদন মোতাবেক রোহিঙ্গাদের পাঠানো তাদের অনুকূলে নেই। জোরপূর্বক প্রত্যাবাসিত হওয়ার আশঙ্কায় রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত ১৪ নভেম্বর বুধবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার লোকজন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা করে তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুতি নিতে আহবান জানালে রোহিঙ্গারা জানায় যে তারা বর্তমান অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না। দাবি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব না দেওয়া হলে তারা ফিরে যেতে চায় না বলে জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তাদের সুপারিশ অনুযায়ী অতিসত্বর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে বিবৃতি প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। গত মাসের শেষে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য তৈরি করা জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের তৃতীয় দফা বৈঠকের পর ঠিক হয় যে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে অস্থায়ী ক্যাম্পে ১৫০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে প্রত্যাবাসিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ দুটি অস্থায়ী প্রত্যাবাসন ক্যাম্পও তৈরি করলেও রোহিঙ্গারা এখন বাংলাদেশ ছাড়তে নারাজ।



