
বাইডেন উপদেষ্টা কাতারে যাচ্ছেন
শিগগিরই হামাস-ইসরাইল বন্দিবিনিময় হতে চলেছে। চুক্তি ত্বরান্বিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইতোমধ্যেই কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে ফোনে কথা বলেছেন জো বাইডেন।
সোমবার হোয়াইট হাউজ দুই নেতার ফোনালাপের একটি সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে। তারা নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং গাজায় জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার গতি বাড়ানোর চলমান প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। হামাসের কাছ থেকে জিম্মিদের মুক্তির ব্যাপারে প্রচেষ্টার জন্য বাইডেন শেখ তামিমকে ব্যক্তিগতভাবে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জিম্মিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই নাগরিকও রয়েছেন। ফোনালাপে দুই নেতা একমত হয়েছেন।
তারা বলেছেন, আর বিলম্ব না করে সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে। শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের জন্য একটি যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি এগিয়ে নিতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। আলজাজিরা।
শুধু ফোনালাপই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। বন্দিবিনিময় চুক্তি সফল করতে কাতারে যাচ্ছেন বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রেট ম্যাকগার্ক। দ্রুত চুক্তির স্বার্থে চলতি সপ্তাহেই কাতারসহ ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশেও সফর করবেন ব্রেট। সোমবার মার্কিন সংবাদ ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, ম্যাকগার্ক ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং বেশ কয়েকজন ইসরাইলি কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করবেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরাইলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের মুক্তির বিনিময়ে হামাসের হাতে ইসরাইলি বন্দিদের প্রায় ৮০ জন নারী ও কিশোর-কিশোরীর মুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন। কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে গাজায় জ্বালানি প্রবেশের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ম্যাকগার্ক সৌদি আরব এবং জর্ডান সফর করবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহু রোববার আমেরিকান নেটওয়ার্ক এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বলেছেন, যদি চুক্তি হয় তাহলে এটা ভালো হবে এবং এটা ঘটলে আমরা ঘোষণা করব। একই প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ঘোষণা করেছেন, হামাসের হাতে বন্দিদের মুক্তি একটি চুক্তি অথবা অপারেশনাল কার্যকলাপের মাধ্যমে হতে পারে। ইসরাইলের দৈনিক সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথ অনুসারে গ্যালান্ট বলেছেন, ‘আমরা যে কোনো উপায়ে বন্দিদের ফিরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেটা অপারেশনাল অ্যাক্টিভিটি হোক অথবা বিনিময় চুক্তির মাধ্যমেই হোক।’ এই প্রথম ইসরাইল গাজায় আটক বন্দিদের মুক্তির জন্য একটি চুক্তি করার সম্ভাবনার আভাস দিয়েছে। তবে গ্যালান্ট আরও বলেছেন, এই যুদ্ধে সমগ্র নিরাপত্তা সংস্থা শুধু দুটি বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন- হামাসের পরাজয় এবং বন্দিদের প্রত্যাবর্তন।



