
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বলেছেন, রাজনীতি কোনো ব্যবসা নয়, কোনো ব্যবসার হাতিয়ারও নয়। যদি দেখেন আমাদের দলের কেউ আমাদের রাজনীতিকে ব্যবসায় পরিণত করছে, সেই ব্যবসা আমরা বন্ধ করে দেব।
শুক্রবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যায় পঞ্চগড় পৌর বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্নীতি ছিল। আপনারা নেতাকর্মীরা যখন রাষ্ট্রের স্বার্থের থেকে ব্যক্তিস্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, তখন তাকেই রাজনৈতিক দুর্নীতি বলা হয়। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন আমরা দেখেছি। তিনি আমাদের আদর্শ। আমরা দেখেছি কতটা সৎ জীবনযাপন করে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। আমরা তার প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। তার সততার ব্যাপারে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। আমরা তার উত্তরসুরী। সেই নেতার উত্তরসুরী হওয়ার পরও গত আগস্টের পর দলের কিছু নেতাকর্মীরা বিভিন্ন যায়গায় ব্যক্তিস্বার্থে যে দুর্নাম অর্জন করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখ এবং লজ্জাজনক
ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বলেন, আমাদের কার্যকলাপের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের সততাকে মুছে দিচ্ছি। আমরা রাজনীতি করি আমাদের দেশের জন্য। আমরা যদি ব্যক্তির জন্য রাজনীতি করি, তাহলে এই রাজনীতির প্রয়োজন নাই। রাজনীতিকে ব্যবসার স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না। রাজনীতিকে ব্যবসায় পরিণত করা যাবে না। আপনার ব্যবসা কী রাজনীতি? এই অবস্থা থেকে আমাদের বের হতে হবে। গত ১৬ বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই। একটা অরাজকতা চলছে। আমাদের নেতা তারেক জিয়া যেভাবে বারবার আপনাদের অনুরোধ করেছেন, আমাদের সামনের নির্বাচন কঠোর একটি নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে যদি আমরা সফলতা চাই, তাহলে শহিদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করতে হবে। আমাদের আচরণ ঠিক করতে হবে।
তিনি বলেন, ভূমিদস্যুরা সব ছিল আওয়ামী লীগের। আজকে আমাদেরকেও এই অভিযোগ শুনতে হয়। কেন শুনতে হবে? আমাদের নিজেদের আত্মউপলব্ধি থাকতে হবে। তিনি এ সময় বলেন, আপনাদের প্রতি করজোড়ে অনুরোধ, ভবিষ্যতের পথ যদি সঠিক করতে চাই, আমাদের নিজেদেরকে একটা আত্মশুদ্ধির পথ বেছে নিতে হবে। আজকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অবস্থা দেখেন। স্বৈরাচার এরশাদের অবস্থা দেখেন। আমাদের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দিকে তাকান। এখনো তিনি অবিস্মরণীয় নেত্রী। কারণ, তিনি দেশের স্বার্থে কখনো আপোষ করেননি। তার ওপর আস্থা রাখুন। আজকে আমরা যদি ব্যক্তিস্বার্থে দুর্নীতির আশ্রয় নেই, তাহলে দেশের স্বার্থকে রক্ষা করতে পারব না। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রাখতে পারবে না।



