
বিজয়ের দিনলিপি- ২ ডিসেম্বর ১৯৭১
মুক্তিবাহিনী নরসিংদীর ঘোড়াশালে একটি পাকিস্তানি ক্যাম্প আক্রমণ করে এবং সেখানে ২৭ জনকে হত্যা করে। সেখান থেকে তারা প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় আজমপুর রেলওয়ে স্টেশন মুক্তিবাহিনী দখল করে নেয়। তবে পাকিস্তানিরা শক্তি সংগ্রহ করে স্টেশন আবারও উদ্ধার করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। পরে মুক্তিযোদ্ধারা আবার নিজেদের সংগঠিত হয়ে এবং তিন দিক থেকে কৌশলে আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানীদের উৎখাত করে।
মুক্তিবাহিনীর গেরিলারা ফটিকছড়ি, রাউজান এবং দক্ষিণ আনোয়ারা মুক্ত করতে চট্টগ্রামে ও পটিয়ায় মরণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
নেত্রকোনার বিরিসিরির বিজয়পুর এলাকায় মুক্তিবাহিনী গেরিলা হামলা চালিয়ে পাঁচজন পাকিস্তানি জঙ্গি হত্যা করে এবং ২১ জন সশস্র রাজাকারকে বন্দী করে।
ইন্দিরা গান্ধী কংগ্রেস সভায় বলেন, যদি পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যায় তবে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী শান্তিতে বসবাস করতে পারে।
পাকিস্তানি মিলিটারি কমান্ডার মোসলেহ উদ্দীন রাজাকারদের একটি গ্রুপ নিয়ে লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাঁঠালি গ্রামে যায়। তখন সেকশন কমান্ডার গিয়াসউদ্দীন এবং আবদুল ওয়াহেদের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী আক্রমণ করে সাতজন রাজাকারকে হত্যা করে।
বাংলাদেশে পিপলস্ পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে পশ্চিম পাকিস্তানের সীমান্ত থেকে ভারত আক্রমণ করতে আহ্বান জানায়।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সৌজন্যে ইংরেজি থেকে অনূদিত -মুখা।



