যুক্তরাষ্ট্র

ভোটের ফল পাল্টাতে এবার গভর্নরকে চাপ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়ায় ভোটের ফল পাল্টে জো বাইডেনের জয় উল্টে দিতে সহায়তা করার জন্য অঙ্গরাজ্যটির রিপাবলিকান গভর্নরের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন।

ধারাবাহিক কয়েকটি টুইটে তিনি জর্জিয়ায় নিজ দলের গভর্নর ব্রায়ান ক্যাম্পকে রাজ্যের আইনসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে রাজ্যের ভোটের ফল বাতিল করার জন্য বলেছেন। রাজ্য আইনসভার মাধ্যমে ইলেকটোরাল ভোটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য গভর্নর ব্রায়ান ক্যাম্পকে অনুরোধ করেছেন। জর্জিয়ার সিনেট রানঅফ নির্বাচন সামনে রেখে সেখানে একটি প্রচার সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প এসব টুইট করেন।

হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র জানায়, ট্রাম্পের চাপে নতিস্বীকার করেননি জর্জিয়ার গভর্নর। তিনি ট্রাম্পকে ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন এমন কাজ করার কর্তৃত্ব তার নেই। বিশেষ অধিবেশন ডাকার আহ্বানও তিনি খারিজ করে দিয়েছেন। খবর সিএনএন ও বিবিসির।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এভাবে কোনো প্রেসিডেন্ট রাজ্য গভর্নরকে ভোটের ফল পাল্টে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন এমন কোনো নজির নেই।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী, শনিবার সকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যাম্পকে ফোন করে ডাকযোগে ভোট দেয়া ভোটারদের স্বাক্ষর নিরীক্ষা করার দাবি তুলতে বলেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো নিরীক্ষা আদেশ দেয়ার ক্ষমতা না থাকার যুক্তি দিয়ে ক্যাম্প প্রেসিডেন্টের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।

এর পরই টুইটারে গভর্নর ক্যাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন ট্রাম্প।

টুইটারে লেখেন, আমি খুব সহজে ও দ্রুত জর্জিয়ায় জয় পেতাম যদি গভর্নর ব্রায়ান ক্যাম্প বা রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সামান্য একটি স্বাক্ষর নিরীক্ষার অনুমতি দিতেন; কেন এ দুজন ‘রিপাবলিকান’ এই প্রস্তাবে না বলছেন?’

টুইটের জবাবে ক্যাম্প জানান, তিনি তিনবার স্বাক্ষর নিরীক্ষার জন্য প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

পাল্টা টুইটে ট্রাম্প বলেন, আপনি যা করতে বলছেন আপনার লোকজন তা করতে অস্বীকার করছে। তারা কী লুকাচ্ছে?

আইনসভার অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প জর্জিয়ার গভর্নরকে বলেন, অন্তত এখনই আইনসভার একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করুন, যা আপনি সহজেই, তাৎক্ষণিকভাবেই করতে পারেন।

পরে জর্জিয়ার ভালডোস্টায় এক সমাবেশে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প আবার ক্যাম্পকে নিয়ে কথা বলেন। বলেন, গভর্নরকে অনেক কঠোর হতে হয়।

সমাবেশে উপস্থিত উৎফুল্ল জনতাকে ট্রাম্প বলেন, তিনি এখনও নির্বাচনে জিততে পারেন। ফের নিজের অপ্রমাণিত অভিযোগ তুলে বলেন, তারা আমাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি ও প্রতারণা করেছে কিন্তু আমরা এখনও এটি জিততে পারি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়া একটি প্রধান ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য ছিল। এখানে সামান্য ব্যবধানে জয় বাইডেনের বিজয়কে সুদৃঢ় করতে সাহায্য করেছে। ১৯৯২ সালের পর প্রথমবারের মতো রাজ্যটি ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেয়।

৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৭২টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট বেশি পেয়ে জয় হন ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন। বাইডেন পেয়েছেন ৩০৬টি আর ট্রাম্পের ইলেকটোরাল ভোট ২৩৪। পপুলার ভোটে ট্রাম্পকে পেছনে ফেলেন বাইডেন। ১৪ ডিসেম্বর ইলেকটোরাল কলেজের বৈঠকে বাইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ী ঘোষণা করা হতে পারে। ২০ জানুয়ারি তিনি শপথ নেবেন।

তবে ট্রাম্প এখনও নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন আর বাইডেনের জয় ‘প্রতারণার মাধ্যমে এসেছে’ বলে কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করে আসছেন।

বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে আইনি লড়াই শুরু করেছিলেন তিনি, কিন্তু সেসব প্রচেষ্টার প্রায় সবই ব্যর্থ হয়েছেন।

এখন ট্রাম্প দাবি জানাচ্ছেন, ডাকযোগে আসা প্রতিটি ব্যালটের স্বাক্ষর যেন পরীক্ষা করা হয়। তিনি জর্জিয়ায় নির্বাচনী প্রচারে দেয়া বক্তৃতায় বলেছেন, লোকজন একই কালি দিয়ে অনেক ব্যালটে স্বাক্ষর করেছেন। মৃত লোকজন ভোট দিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীরা ভোট দিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে জয়ী করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়ার গভর্নরকে চাপ দেয়ার আগে অ্যারিজোনার গভর্নর ডাগ ডুসিকে একই কায়দায় চাপ দেন।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension