যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যবর্তী নির্বাচন: ১ বিলিয়ন ডলারেও কি জয় সম্ভব? শঙ্কায় রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রায় এক মাস বাকি। ভোটার টানার প্রচার চালাতে ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকান পার্টির তহবিলে আছে প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার। কিন্তু সেটি দিয়ে বড় ধরনের পরাজয় ঠেকানো যাবে কি না তা নিয়ে দলের ভেতরেই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শঙ্কার এমন পরিবেশ তৈরির কারণ- প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া, নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম এবং চলমান ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব।

প্রচারের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে বণ্টন হয়েছে। সবচেয়ে বড় অংশ পেয়েছে ‘মাগা ইঙ্ক’ বা মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন ইনকরপোরেশন। রাজনৈতিক এই প্ল্যাটফর্মটি ট্রাম্প সমর্থকদের তৈরি। গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে তাদের হাতে ছিল প্রায় ৪১৬ মিলিয়ন ডলার। সেপ্টেম্বর থেকে তারা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে নির্বাচনী ব্যয় বাড়াতে শুরু করেছে।

কিন্তু মাগা ইঙ্ক দেরিতে প্রচারে নামায় বিজ্ঞাপনের পেছনে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। দলটির কয়েকজন সদস্য বলেছেন, মাগার তুলনায় অন্য গ্রুপগুলো বেশ আগে বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করেছিল। তখন খরচও অনেক কম হয়। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করার কারণে এখন কিছু ক্ষেত্রে পাঁচ গুণের বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

মাগা ইঙ্কের কৌশল তৈরির সঙ্গে যুক্ত এক প্রতিনিধি জানান, ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমালোচনামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারে কেবল তারাই মাঠে সক্রিয়। কৌশলটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় ওই প্রতিনিধি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

১৯৮৮ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রার্থী টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে জিততে পারেননি। কিন্তু তারপরও আসনটি ধরে রাখতে গত এক মাসে ২২ মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেছে মাগা ইঙ্ক। বিজ্ঞাপন নজরদারি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডইমপ্যাক্ট’ এই তথ্য দিয়েছে। রিপাবলিকানদের জন্য ‘নিরাপদ’ হিসেবে বিবেচিত আসনেও বিপুল অর্থ খরচকে অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, মাগা ইঙ্ক মূলত স্ট্রিমিং পরিষেবাগুলোতে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। প্রতিবার প্রচারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় ৮৯৪ ডলার। বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর বিজ্ঞাপন প্রচারে সম্প্রচার ও স্ট্রিমিং মিলিয়ে খরচ হচ্ছে মাত্র ২৯০ ডলার।

নির্বাচন যেন অর্থের ক্ষমতার পরীক্ষা
মার্কিন রাজনীতিতে নির্বাচনী প্রচার যেন অর্থের ক্ষমতারও পরীক্ষা নিচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রায়ই তাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করছে। এই ঘাটতি পূরণে তারা ভোটারদের মাঝে ট্রাম্পবিরোধী মনোভাব ও দুর্নীতির মতো বিষয়গুলোতে সুনির্দিষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে অর্থ ঢেলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার ব্যাপারে কিছু রিপাবলিকান নেতা সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের একজন নিল নিউহাউস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান পার্টির পোলস্টার বা জনমত জরিপকারী হিসেবে কাজ করছেন।

নিল বলেন, জরিপের চিত্র পাল্টানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর বিজ্ঞাপনগুলো শ্রমিক দিবসের অনেক আগে প্রচার হয়। অক্টোবর মাসে এসে বিজ্ঞাপনের পেছনে লাখ লাখ ডলার খরচ করাটা সাগরে একবিন্দু জল ফেলার মতো।

নর্থ ক্যারোলাইনার বিদায়ী রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস দলের দুর্বলতাগুলো নিয়ে সরব হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, মজবুত আর্থিক ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও শেষ মাসে প্রচার চালাতে হলে বাজির দানের মতো হিসাব কষতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলো কত টাকা খরচ করতে পারবে, তার ওপর থাকা বাধ্যবাধকতা গত জুন মাসে তুলে নেয় সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আরও বিপুল পরিমাণ অর্থের ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension