
মার্কিন গণতন্ত্র ঝুঁকিতে, ভুল করা যাবে না: বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। এ নির্বাচনে ইতোমধ্যে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) মূল ভোট। ভোট ঘিরে প্রধান দুই দল ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে চলছে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা। নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ২ নভেম্বর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন গণতন্ত্র মিথ্যা ও সংঘাতে ঝুঁকিতে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
আলজাজিরা ও দ্য ডনের প্রতিবেদন জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসির ইউনিয়ন স্টেশনের (ট্রেনস্টেশন) একটি হলরুমে সমর্থকদের উদ্দেশে প্রায় ২০ মিনিট কথা বলেন বাইডেন। মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের মিথ্যা প্রচারণা ও সহিংসতার কারণে মার্কিন গণতন্ত্র আজ ঝুঁকিতে। এখন আমাদের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ব্যালটের ওপর নির্ভর করছে। কাজেই কোনো ভুল করা যাবে না।’
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন। এতে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সবকটি ও উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০ আসনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নির্বাচন হয়। তা ছাড়া অনেক রাজ্যের বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয় এ দিন।
এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, এর ফলের ওপর নির্ভর করছে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কেমন যাবে বাইডেন প্রশাসনের বাকি দুই বছর।
সাম্প্রতিক অধিকাংশ জরিপ বলছে, এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতভাবে রিপাবলিকানদের হাতে যাচ্ছে। এমনটি হলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে বাইডেন প্রশাসন। কারণ এতে প্রতিনিধি পরিষদে কোনো বিল পাসের জন্য পর্যাপ্ত সমর্থন পাবেন না বাইডেন। ফলে তার স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র নীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।
বর্তমানে মাত্র কয়েকটি আসন বেশি থাকায় প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ বাইডেনের দল ডেমোক্র্যাটদের হাতে, যার স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। অন্যদিকে মাত্র ২টি আসন বেশি নিয়ে সিনেটের দখল রিপাবলিকানদের হাতে। সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৫০টি রিপাবলিকানের, ৪৮টি ডেমোক্র্যাটের। বাকি ২টি স্বতন্ত্র।
এ রকম এক পরিস্থিতিতে বুধবারের ভাষণে বাইডেন বলেন, ‘২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যারা ব্যর্থ হয়েছিল, সেই শক্তিটাই এখন মানুষের ভোটাধিকার ও আমাদের নির্বাচনব্যবস্থা ভণ্ডুল করতে চাইছে। এ মানসিকতা বা চেষ্টা আমাদের বিশৃঙ্খলার দিকে নিয়ে যাবে। কিন্তু এটা আমাদের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এটা বেআইনি। বলতে কি, এটা আমেরিকার সঙ্গে যায় না।’
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে পারছিলেন না ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা। তারা নির্বাচনের কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ আনেন। পরের বছর অর্থাৎ গত বছরের ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসে (মার্কিন পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ) নির্বাচনী ফল আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা ও ক্ষমতা হস্তান্তরের দিন দাঙ্গা শুরু করেন ট্রাম্প সমর্থকরা। কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গা যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি বড় ধরনের প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে দিয়েছে বলে মনে করনে বিশ্লেষকরা।



