আন্তর্জাতিক

মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিল মালি

দ্বিপাক্ষিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি। এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতির পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

রোববার রাজধানী বামাকো থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে মালির নাগরিকদের ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার জন্য ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলেছে, মালি একই নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করবে।

মালি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিয়ম ২০০৫ সালের দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ভিসা-সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন। দেশটি বলেছে, আমরা সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সহযোগিতা করেছি কিন্তু এবার যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ একতরফা ও অসম।

মালি জানিয়েছে, ‘পারস্পরিকতার নীতি’ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রেও একই আর্থিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে যাওয়া মালির নাগরিকদের মতোই, মালিতে ভ্রমণের সময় আমেরিকানদেরও বন্ড জমা দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতিতে মালি ছাড়াও আরও ছয়টি আফ্রিকান দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় যাত্রীদের ২৩ অক্টোবর থেকে ভিসা নেওয়ার সময় অতিরিক্ত বন্ড দিতে হবে, যা তাদের ভ্রমণ শেষে ফেরত দেওয়া হবে যদি তারা নির্ধারিত সময়ে দেশ ত্যাগ করেন।

তবে কেউ বেশি সময় অবস্থান করলে বা আশ্রয়ের আবেদন করলে সেই অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

সমালোচকরা বলছেন, এই অতিরিক্ত বন্ডের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের নিরুৎসাহিত করবে। এ নীতিটি ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন প্রবাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যার মাধ্যমে আফ্রিকান দেশগুলোকে জোরপূর্বক অভিবাসন ফেরত নেওয়ায় রাজি করানো হচ্ছে। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে বহিষ্কৃত অভিবাসী গ্রহণে রাজি হয়েছে আর কেউ কেউ তা প্রত্যাখ্যান করায় শাস্তির মুখে পড়েছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বুরকিনা ফাসো যুক্তরাষ্ট্রের দাবিতে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর ভিসা সেবা স্থগিত করা হয়, এসওয়াতিনি ৫.১ মিলিয়ন ডলার সহায়তার বিনিময়ে ১৬০ জন বহিষ্কৃত অভিবাসী গ্রহণে সম্মত হয়, আর ঘানা, রুয়ান্ডা ও উগান্ডা-ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।

মালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমরা ফলপ্রসূ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় আমরা বাধ্য হয়েছি সমান নীতি প্রয়োগ করতে।

সূত্র: আল-জাজিরা

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension